Published on
:
2 min read
এই সময়, শিলিগুড়ি: বিসর্জন শেষ। হুল্লোড়ও শেষ। পাড়ার মাঠে নেই কচিকাঁচাদের ভিড়। তবে শিলিগুড়ি শহরজুড়ে রয়ে গিয়েছে বিজ্ঞাপনের রংবেরঙের তোরণ। বাঁশের কাঠামো বহাল তবিয়তে রাস্তা দখল করে রয়েছে। অভিযোগ পেয়ে শনিবার সাতসকালে পরিস্থিতি দেখতে পথে নামেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এ দিন প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে হিলকার্ট রোড, বিধান রোড-সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি।
পুজো শেষের তিন দিন পরেও রাস্তা দখল করে থাকা বাঁশের কাঠামো ও তোরণ দেখে কার্যত বিরক্ত শঙ্কর দ্রুত খুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, 'ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলোকে বাঁশের কাঠামো, বিজ্ঞাপনের তোরণ দ্রুত খুলে নিতে বলা হয়েছে। কেউ সাত, দশ দিন রেখে দেওয়ার কথা ভেবে থাকলে আমি বলব, এমন কাজ করবেন না।'
শনিবার সাতসকালে শঙ্করকে হিলকার্ট রোডে দেখতে পেয়ে ছুটে আসেন স্থানীয় মিত্র সম্মিলনীর অন্যতম আয়োজক সৌরভ ভট্টাচার্য। মন্ত্রী তোরণ খুলতে বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্মিলনীর সদস্যরা তোরণ খোলা শুরু করেন। মন্ত্রীর সারপ্রাইজ় ভিজিটে বিকেলের মধ্যে হিলকার্ট রোডের অনেক রাস্তা তোরণ-মুক্ত হয়ে যায়।
কিন্তু শহরের অন্যান্য জায়গায় পরিস্থিতি রয়ে গিয়েছে একই রকম। তবে কি মন্ত্রী না গেলে বাঁশের কাঠামো ও তোরণ আরও কয়েক দিন থেকে যাবে? দেশবন্ধুপাড়ার একটি ক্লাবের এক কর্মকর্তার জবাব, 'আসলে পুজো শেষ হলেও পরবর্তীতে অনেক কাজ থেকে যায়। সেই সঙ্গে ধকল ও চাপ থাকে প্রচুর। এই কারণে প্রতিবারই কয়েক দিন ধরে তোরণ থেকে যায়। তবে মন্ত্রীর বার্তা আমরাও শুনেছি। দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।'
এ দিন, দেশবন্ধুপাড়া, বাবুপাড়া, রবীন্দ্রনগর ও সুভাষপল্লি এলাকা ঘুরে দেখা গিয়েছে, বেশির ভাগ রাস্তায় তোরণ রয়েছে। রাস্তা ছোট হয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অসুবিধায় পড়তে হয়েছে পথচলতি মানুষকে। সুভাষপল্লির ব্যবসায়ী অমল ঘোষ বলেন, 'বাঁশের কাঠামোগুলো থেকে যাওয়ার জন্য রাস্তা ছোট হয়ে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যানারগুলো ছিঁড়ে গিয়ে দৃশ্যদূষণের কারণ হয়েছে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত খোলা দরকার।'
শুধু তোরণ নয়, এ দিন নাম না করে বেশ কিছু ক্লাব ও পুজো কমিটিকে সতর্ক করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, 'লক্ষ্য করেছি, বিসর্জনের সময়ে একটি ক্লাবের অনেকেই প্রকৃতিস্থ ছিলেন না। এতটাই যে, বিসর্জনের জন্য প্রতিমা নিয়ে আসা গাড়ির চালক ঠিক মতো গাড়িই ঘোরাতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত এক পুরকর্মী ওই গাড়ি নিরঞ্জন ঘাট পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে বিসর্জনের ব্যবস্থা করেন। এই ধরনের ক্লাবের কাজকর্ম একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না।'
