আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে: মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ১১ হাজারের বেশি অভিযানে এসব বিদেশিকে আটক করা হয়। এ সময়ে ১ লাখ ৪৬ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযানে আটকের সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৮৭ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৮টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫১১ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই এবং ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
লোকমান এফেন্দি বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে বৈধ ভ্রমণ নথি বা অবস্থানের অনুমতিপত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং পাস বা ওয়ার্ক পারমিটের অপব্যবহারের মতো অভিযোগ বেশি শনাক্ত হচ্ছে। তিনি জানান, আটক ও দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের নাগরিক উল্লেখযোগ্য। নির্মাণ ও সেবাসহ বিভিন্ন খাতের কর্মস্থলে এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কেলান্তান রাজ্যের কুবাং কেরিয়ানে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণস্থলে অভিযান চালিয়ে ৫৭ জন বিদেশির কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ জনকে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া অবৈধ পথে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে অভিবাসন বিভাগ। এ ঘটনায় মিয়ানমারের ১১ নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে অন্য ১০ জনকে অবৈধ পথে দেশ থেকে বের করে নেওয়ার কাজে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকাফ চে ইয়েতে একটি হোটেলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। অন্য ১০ জন জোহর বাহরু ও কুয়ালালামপুর থেকে এসে সেখানে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লোকমান এফেন্দি বলেন, প্রত্যেকের কাছ থেকে মালয়েশিয়া থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাঁদের গতিবিধি শনাক্ত করে আটক করা হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আরও কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে দেশটির অভিবাসন ডিপোগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে এসব ডিপোর মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ২০ হাজার জন। তবে ধারাবাহিক অভিযানে আটক ব্যক্তিদের রাখার কারণে বিভিন্ন ডিপোতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান শনাক্ত করতে অভিবাসন বিভাগ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক বিশেষ মানচিত্র তৈরি করেছে। এর সাহায্যে বিদেশিরা কোথায় বসবাস করেন, অবস্থান করেন কিংবা একত্র হন, তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ পাস ব্যবহার, অনুমতিপত্রের অপব্যবহার এবং শরণার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। প্রত্যেকের আইনগত অবস্থান ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
একই সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার ৪১টি কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৯০ হাজার বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ৭৫ শতাংশ মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত।
