Published on
:
2 min read
এই সময়: ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রের সংশোধিত হিসেব পদ্ধতির পাশে দাঁড়াল আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (আইএমএফ)। এ দেশের জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে সম্প্রতি যে বদল করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অার্থিক সংস্থাটি। আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির ডিরেক্টর কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানিয়েছেন, ভারতের জিডিপি নির্ধারণের পদ্ধতিতে সংশোধন তাদের পরিসংখ্যান বিভাগের দেওয়ার পরামর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। জিডিপি গণনার ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশ আর্থিক বৃদ্ধির হার প্রকাশ্যে আসের পরে সেই পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং হিসেবের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই সময়ে শ্রীনিবাসনের এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংস্থার এই স্বীকৃতি জিডিপি গণনার পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রের অবস্থানকে সমর্থন জোগালেও, নির্দিষ্ট ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হার নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
২০২৬-এ ভারতের পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক জিডিপির বার্ষিক ও ত্রৈমাসিক হিসেবের নতুন সিরিজ় প্রকাশ করে। সেখানে জিডিপি গণনার ভিত্তিবর্ষ ২০১১-১২ থেকে বদলে ২০২২-২৩ করা হয়েছে। অর্থনীতির আকার ও বৃদ্ধির হিসেব করতে একটি নির্দিষ্ট বছরকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের ভোগব্যয়ের ধরন, উৎপাদন কাঠামো, শিল্পের চরিত্র এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবর্তন আসে। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভিত্তিবর্ষ সংশোধন করে নতুন তথ্য ও উন্নত হিসেব পদ্ধতি চালু করা আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান চর্চারই অংশ। এর ফলে অর্থনীতির প্রকৃত পরিস্থিতি আরও নির্ভুল ভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা।
নতুন পদ্ধতিতে উৎপাদন এবং মূল্য নির্ধারণের হিসেবেও বদল আনা হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন শিল্পের ক্ষেত্রে ‘ডাবল ডিফ্লেশন’ বা দ্বৈত মূল্য-সমন্বয় পদ্ধতির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এই পদ্ধতিতে কোনও সংস্থার উৎপাদিত পণ্যের দাম এবং উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামাল ও অন্য উপকরণের দামের পরিবর্তন আলাদা ভাবে হিসেব করা হয়। যার ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাদ দিয়ে প্রকৃত উৎপাদন কতটা বেড়েছে বা কমেছে, তা তুলনামূলক ভাবে নির্ভুল বোঝা সম্ভব।
পাশাপাশি, নতুন মূল্যসূচক এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপের উন্নত পদ্ধতিও সংশোধিত জিডিপি সিরিজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আইএমএফের মতে, এই পরিবর্তনগুলি তাদের পরিসংখ্যান বিভাগের পরামর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে পরিসংখ্যানের মান উন্নত করার আরও সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্রীনিবাসন।
জিডিপি গণনার পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধির হার প্রকাশের পর। ওই সময়ে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ, যা বাজারের অধিকাংশ পূর্বাভাস এবং রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের আগের ৭ শতাংশের অনুমানের চেয়ে বেশি। এই পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন অর্থসচিব এস সি গর্গ। তাঁর দাবি, আগের অর্থবর্ষের সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিকের জিডিপির হিসাব কমিয়ে সংশোধন করায় চলতি অর্থবর্ষের বৃদ্ধির হার তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখাচ্ছে। কারণ, জিডিপি বৃদ্ধির হার নির্ধারিত হয় আগের বছরের একই সময়ের উৎপাদনের সঙ্গে বর্তমান সময়ের উৎপাদনের তুলনা করে। ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত আগের বছরের হিসেব বদলে গেলে বৃদ্ধির হারেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে অতীতের পরিসংখ্যান সংশোধনের প্রভাব কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও কেন্দ্রের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরন তাঁর এই বিশ্লেষণকে তথ্যের বাছাই করা ব্যবহার বা ‘চেরি-পিকিং’ বলে সমালোচনা করেছেন।
