সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে না আনার পক্ষে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান রতন। নিজের মন্তব্যকে ভুল উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারও করেছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান এই সংসদ সদস্য।
বিজ্ঞপ্তিতে কামরুজ্জামান রতন বলেন, সম্প্রতি একটি টক শোতে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদের দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে সংকীর্ণভাবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে গিয়ে আবেগবশত বলেছিলাম, ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক, তা চাই না।’
তিনি বলেন, আমার এই মন্তব্যটি করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাহার করছি। আমার এই মন্তব্যের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এবং আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের মনে যে কষ্ট ও আঘাত দিয়েছি, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
এর আগে গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে ‘সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড ও আমাদের কূটনীতির ব্যর্থতা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন কামরুজ্জামান রতন। তার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্তব্যটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন।
এদিকে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে বাংলাদেশের জন্য ‘বড় শিক্ষা’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে ‘ব্যভিচারে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে সৌদি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি। বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের নিজস্ব আইনি কাঠামো রয়েছে। সেই কাঠামো অনুযায়ী কেউ গর্হিত অপরাধ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড আমাদের জন্য বড় শিক্ষা। সৌদি আরবের কাছ থেকে চিঠির জবাব পাওয়ার পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ কীভাবে দেশে ফেরত আনা সম্ভব, সে বিষয়ে জানা যাবে বলেও জানান শামা ওবায়েদ।
দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়সারা বক্তব্য নিয়েও সৃষ্টি হয় সমালোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এমএল/এমএন
