Published on
:
2 min read
এই সময়, আসানসোল: জামুড়িয়ার একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানায় দুর্ঘটনায় চার শ্রমিকের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য শ্রম দপ্তর। শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর অফ ফ্যাক্টরিস দেবব্রত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরেই তাঁরা ওই কারখানায় গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। আরও বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করা বাকি আছে। সব কিছু হাতে পেলে আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করে শ্রম দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে ওই কারখানায় নির্মীয়মাণ ঢালাইয়ের অংশ ভেঙে পড়লে জামুড়িয়ার নতুন জামসোল গ্রামের সুশান্ত পাল ও বাগডিহা গ্রামের বলরাম দাস, মুর্শিদাবাদের আকবর আলি এবং আসামের বুলবুল বেজ বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় কারখানার মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃত্ব এই অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, বার বার জামুড়িয়া–সহ আসানসোল মহকুমার একাধিক কারখানায় দুর্ঘটনা ঘটছে। মানুষ মারা যাচ্ছেন বা ভয়ঙ্কর ভাবে আহত হচ্ছেন। কিন্তু সেই অর্থে মালিকদের তেমন কোনও শাস্তি হতে দেখা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত, তাও সর্বত্র নেই।
জামুড়িয়ার বাসিন্দা এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিটু নেতা মনোজ দত্ত শুক্রবার জানিয়েছেন, এ বছর জামুড়িয়ারই একটি কারখানায় ফার্নেসের আগুনে ঝলসে গিয়ে চার জন শ্রমিক আহত হন। আর একটি ইস্পাত কারখানায় দুর্ঘটনায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা দু’টি ক্ষেত্রেই লিখিত ভাবে ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরের কাছে তদন্ত এবং তার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু উত্তর মেলেনি। এ বারও পুজোর ছুটির পরে অফিস খুললেই আমরা গত শনিবারের ওই দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের তরফে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরের কাছে তা জানতে চাইব।’
গত শনিবার জামুড়িয়ার ওই বড় ইস্পাত কারখানার দুর্ঘটনার ভয়ঙ্কর আওয়াজ পেয়ে স্থানীয়রা যেমন ছুটে যান, তেমন খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায়, জামুড়িয়া থানার ওসি সৌমেন্দ্র সিং ঠাকুর এবং সিটু ও বিজেপির স্থানীয় নেতারা।
দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক এ দিন বলেন, ‘আমি খবর পেয়েই ওই কারখানায় যাই। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। যে চার শ্রমিক মারা যান, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ লক্ষ টাকা ও প্রত্যেকের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া মৃতদের শেষকৃত্যের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে এক লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে।’ দুর্ঘটনার তদন্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ এবং শ্রম দপ্তর দেখছে। এ নিয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারব না।’ জানা গিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
