ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে: ডিসেম্বরের মধ্যে সোনারগাঁও র্যাম্প ও ইটিসি চালুর নির্দেশ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রাজধানীর পান্থকুঞ্জ পার্ক এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সোনারগাঁও ইএন-২ র্যাম্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। একই সময়ের মধ্যে এই র্যাম্পটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছে বিবিএ।
ডিসেম্বরের মধ্যে এই র্যাম্পে ইলেকট্রনিক টোল সংগ্রহ (ইটিসি) ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি ওই এলাকার পানি-বিদ্যুৎ-গ্যাস পরিসঞ্চালন লাইন স্থানান্তর করতেও তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এই কাজগুলো যেন নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান নিয়েও ভাবতে হচ্ছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিংয়ে (সিসিবি) অনুষ্ঠিত মাসিক অগ্রগতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে এই সভায় সেতু বিভাগ, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের (এফডিইই) প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এরপর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি, চলমান কার্যক্রম ও নানা সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান।
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মগবাজার-মালিবাগ-কমলাপুর-যাত্রাবাড়ি অংশের কাজ চলমান থাকায় সেসব এলাকায় পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীও ক্ষোভ জানাচ্ছে।
এই প্রকল্পের ইউটিলিটি প্রতিস্থাপন ও অপসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল শেখ আহমেদ শাফি জানান, ডিপিডিসি, ঢাকা ওয়াসা ও বিটিসিএলসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। ২৪ ইসিবি ব্যয় সাশ্রয় করে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে এ কাজ নিয়ে যেসব বিষয় এখনও নিষ্পন্ন হয়নি সেগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেন সেতু সচিব। তিনি প্রয়োজনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনেরও পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তাদের তাগাদা দিয়েছেন।
জয়ন্ত সাহা/এসএন
আরও পড়ুন
সংবিধান সংশোধন নিয়ে কমিটিতে বিরোধী দল না থাকলে বিতর্কের সুযোগ হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
-->সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কিছু বিষয় মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞরা এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। অন্যদিকে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধী দল অংশ না নিলে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি বলেন, বৈঠকটি ছিল সমৃদ্ধ, গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানগর্ভ। সংবিধানের বিভিন্ন অংশে কী কী বিষয় প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন এবং জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, অথচ জাতির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন—এমন বিষয়েও শিক্ষাবিদরা মতামত দিয়েছেন।
সংবিধানের ব্যাখ্যা ও মৌলিক কাঠামোসংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার কী হবে, তা সাংবিধানিকভাবে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন আলোচকরা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যাতে অন্য অঙ্গের ওপর খবরদারি করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনের বর্তমান বিধান, ভবিষ্যতে সংশোধনের ক্ষেত্রে নমনীয়তা ও স্থিতিশীলতার ভারসাম্য এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বাইরে বিকল্প পদ্ধতি রাখা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিলুপ্ত মৌলিক কাঠামোসংক্রান্ত বিধান নিয়েও মতামত এসেছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে অনেকে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন। তবে বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়নি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিকল্পগুলোর মধ্যে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বাদ দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়ে আলোচকদের মতামত পাওয়া গেছে।
সংসদের উচ্চকক্ষে কোন শ্রেণি বা এলাকার প্রতিনিধিত্ব থাকবে, সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, জেলাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি না এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা যায় কি না—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির কিছু বিষয় রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে জনগণের সার্বভৌমত্ব আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রস্তাবও এসেছে।
বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকা নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্যই কাজ করছে। বিরোধী দলের নেতাদের কমিটিতে প্রতিনিধিদের নাম দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা নাম দিলে স্বাগত জানানো হবে।
তিনি বলেন, “বিরোধী দল না এলেও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। এটা জাতির প্রত্যাশা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা আমাদের অঙ্গীকার।”
বিরোধী দল কমিটিতে অংশ না নিলে বিতর্কের সুযোগ থাকবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “বিতর্ক করার একটা সুযোগ থাকবে। আমরা সব সময় আহ্বান জানাব, বিরোধী দল যেন আমাদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অংশগ্রহণ করে এবং তাদের মতামত দেয়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিটির প্রতিবেদন প্রণয়নের পর সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপিত হলে বিরোধী দল অংশ নেবে।
কমিটির সভাপতি আরও জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দিনব্যাপী আলোচনায় বসবে কমিটি। সভায় জাতীয় অধ্যাপক মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক গীতিআরা নাসরিন, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
এলিস/এসএন
আরও পড়ুন
তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। এ সময় তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহ প্রকাশ করে দেশটি।
এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।
তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, তিস্তা প্রকল্পে সম্ভাব্য কারিগরি সহায়তা, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
শাহাদাৎ স্বাধীন আরও জানান, বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের এখনই উপযুক্ত সময়। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। ফলে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদীব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানান।
এ সময় ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের সহযোগিতা কামনা করে।
বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ বলেছে, এ সংকটের মূল উৎস মায়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
পাশাপাশি কৃষিখাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশকে সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
উপ-প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এ অভিজ্ঞতার আলোকে তার সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান শুর্দ শুর্দসমার।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমীন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নাঈম/
আরও পড়ুন
পাহাড়ে নানা সংকট, সমাধানে ৮ দফা দাবি ছাত্র-যুবকদের
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->পাহাড়ে রাজনৈতিক-সামাজিক নানা সংকট সমাধানে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় যেভাবে পরিচালিত হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক তিনটি পৃথক জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবিও তুলেছে তারা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পুরান পল্টন মোড়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা এ দাবি জানিয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য দীপক শীলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ, হিল উইমেনস ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চংগা, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ)-এর সভাপতি গৌতম শীল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতারা। এ সময় নেতাকর্মীরা পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করেন; তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি আছে পাহাড়ি অঞ্চলের ছাত্র-যুবকদের। তাই এই কমিটিগুলোর বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছে তারা।
তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পদে পাহাড়ি কোনো নেতাকেই আসীন করতে হবে।
পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা; চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করার দাবি তুলেছেন পাহাড়ি যুবক, ছাত্ররা।
সমাবেশে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শোষণ ও বঞ্চনার অবসানের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমানে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি করছে।
সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। অবিলম্বে চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
জয়ন্ত সাহা/এসএন
আরও পড়ুন
মিসাইল ফায়ারিংয়ের সফল মহড়া চালাল বিমানবাহিনী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
ছবি: আইএসপিআর
-->বাংলাদেশ বিমানবাহিনী সফলভাবে ‘এফএম- ৯০ লাইভ মিসাইল’ ফায়ারিং মহড়া সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কক্সবাজারের নিদানিয়ায় অবস্থিত এয়ার ডিফেন্স ফায়ারিং রেঞ্জে (সিএডিএফআর) এ মহড়া চালানো হয়।
মহড়ায় উপস্থিত থেকে বিমানবাহিনীর ৩০১ স্যাম ইউনিটের পরিচালিত মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিমানবাহিনীর প্রধান লাইভ মিসাইল ফায়ারিং কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং মহড়ার সফল কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। সফলভাবে মহড়া সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও পেশাদারত্ব বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় বিমানবাহিনীর প্রধান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান। পাশাপাশি বাহিনীর সদস্যদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আইএসপিআর আরও জানায়, মহড়া পরিদর্শনের সময় সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ), বিমানবাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ এবং বিমান সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলমগীর হোসেন/সালমান/
