ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অন্যায় ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অন্যায় ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতিমধ্যে এক নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যৌথ আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজই করেছিলেন। পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে তিনি গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি। একজন মন্ত্রী পর্যায়ের নেতার জন্য এটি শোভনীয় নয়।
স্পিকার বলেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দেহরক্ষী থাকেন। পুলিশের ভূমিকা দুর্বল হলে দলীয় কর্মীরাও সহযোগিতায় যেতে পারেন। কিন্তু একজন নেতা বা মন্ত্রীর নিজের হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া, তা বৈধ হোক কিংবা অবৈধ, কোনোভাবেই শোভনীয় নয়। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দুর্বৃত্তদের দমন করতে যাওয়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দুটি উদাহরণ তাদের সামনে রয়েছে। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আপসহীন অবস্থানে রয়েছেন। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ শাসনের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। এই সরকারের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সংসদে নিজের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, তিনি নিরপেক্ষভাবে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছেন। বিরোধী দলের সদস্যরাও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ তোলেননি। সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমানভাবে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারের সমালোচনা করলেও তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেননি তিনি। গণতন্ত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়েরই ভূমিকা রয়েছে। তাই সংসদে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ইশরাকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাকের পদত্যাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো।
এর আগে, সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম। এ ঘটনায় আমি কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি। তবে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে আমি প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে তার কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে নিজের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি। ইশরাক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন আহমেদ আযম খান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে ইশরাক হোসেন তার লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী, পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পর আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ফলে সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা ২৭ জন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ২৩ জন।
এরআগে, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক হোসেন। অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িড়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর জেরে রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এরপরই তিনি পদত্যাগ করেন।
