বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে ১,০০০ কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক।
বন্ড ইস্যুর এই উদ্যোগ টেকসই অর্থায়নের প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীকার তুলে ধরে। একই সঙ্গে, দেশের অর্থনীতিকে আরও পরিবেশবান্ধব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার অগ্রযাত্রার সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিন বছর মেয়াদি এই বন্ডটি হবে সিনিয়র আনসিকিউরড, অরূপান্তরযোগ্য, সম্পূর্ণ পরিশোধযোগ্য ও জিরো-কুপন বন্ড। বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ গ্রিন বন্ডের আওতায় অর্থায়নের জন্য নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন এবং শিল্প খাতে জ্বালানি-দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রিন বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা’ অনুসরণ করে ইস্যু হতে যাওয়া দেশের প্রথম গ্রিন বন্ড এটি। বন্ডটি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) গ্রিন বন্ডের মূলনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে টেকসইতার মানদণ্ড, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গীকার উঠে এসেছে। বন্ডের কাঠামো সম্পর্কে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস একটি ‘সেকেন্ড-পার্টি ওপিনিয়ন’ দিয়েছে। এর মাধ্যমে বন্ডটির পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বাধীন মূল্যায়ন পাওয়া গেছে।
বন্ডটির অভিহিত মূল্য হবে ১০ লাখ টাকা। এটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রযোজ্য বিধিবিধান ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডও এতে বিনিয়োগ করা যাবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “এই গ্রিন বন্ড ব্র্যাক ব্যাংকের টেকসই অর্থায়নের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আরও বিকাশে এটি অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে আমরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আরও পরিবেশবান্ধব ভবন এবং শিল্পকারখানায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থায়ন পেতে সহায়তা করতে চাই।”
“আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রকল্পে অর্থায়ন করাই নয়; আমরা এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও অবদান রাখতে চাই, যেখানে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির প্রতিটি ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) অর্জনে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এসডিজি ৭: সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি; এসডিজি ৯: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো; এসডিজি ১১: টেকসই নগর ও জনবসতি; এবং এসডিজি ১৩: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ।
টেকসই অর্থায়নে ব্র্যাক ব্যাংকের অর্জন ও সুনামের ধারাবাহিকতায় এই বন্ড ইস্যু করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে টানা পাঁচ বছর দেশের শীর্ষ টেকসই ব্যাংকগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া, ব্লুমবার্গের ইএসজি রেটিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্র্যাক ব্যাংকের মোট ঋণের ৬০ শতাংশের বেশি টেকসই অর্থায়নে বরাদ্দ রয়েছে। এতে বোঝা যায়, ব্যাংকটির অর্থায়ন কার্যক্রমে টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো ক্রমেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি ট্রাস্টি এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।