নারায়ণগঞ্জের শান্তনা মার্কেটে নতুনভাবে চালু হলো বিশ্বরঙের আউটলেট
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফ্যাশনপ্রেমীদের জন্য নতুন করে চালু হয়েছে দেশের ঐতিহ্যনির্ভর ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের শান্তনা মার্কেট আউটলেট। চাষাড়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই আউটলেটের মাধ্যমে স্থানীয় ক্রেতারা আরও সহজে বিশ্বরঙের বৈচিত্র্যময় পোশাকের সংগ্রহ থেকে নিজেদের পছন্দের পোশাক বেছে নিতে পারবেন।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিজস্ব নান্দনিকতাকে পোশাকের নকশায় তুলে ধরার প্রত্যয়ে বিশ্বরঙ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। দেশীয় ফ্যাশনের স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক রুচি ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক তৈরি করাই ব্র্যান্ডটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
শান্তনা মার্কেটের আউটলেটে ক্রেতারা বিশ্বরঙের বিভিন্ন ফ্যাশন সংগ্রহ থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক কেনাকাটা করতে পারবেন। উৎসব, পারিবারিক আয়োজন কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য দেশীয় ফ্যাশনের বৈচিত্র্যময় সমাহার নিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
বিশ্বরঙ বিশ্বাস করে, ফ্যাশন কেবল পোশাকের সৌন্দর্য নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নিজস্ব সংস্কৃতি, রুচি ও পরিচয়ের প্রকাশ। সেই ভাবনাকে ধারণ করেই দেশীয় ফ্যাশনকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বরঙ।
/এসএল
আরও পড়ুন
উৎসবে সাজুক ডাইনিং স্পেস
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ এএম
দুর্গাপূজা কিংবা অন্য যেকোনো উৎসবে বাড়িতে অতিথি এলে আপ্যায়নের পাশাপাশি ঘরের সাজসজ্জার দিকেও নজর দেন অনেকে। বিশেষ করে ডাইনিং স্পেস বা খাবার ঘরটি এমন একটি জায়গা, যেখানে সবাই একসঙ্গে বসে খাবার খান, গল্প করেন এবং আনন্দ ভাগ করে নেন। তাই উৎসবের সময়ে ডাইনিং স্পেসকে পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক ও নান্দনিকভাবে সাজিয়ে তুলতে পারেন। লিখেছেন মুশফিরাত
টেবিলের সাজে থাকুক উৎসবের ছোঁয়া
ডাইনিং স্পেসের সাজসজ্জায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় খাবার টেবিল। তাই প্রথমেই টেবিলের জন্য বেছে নিন সুন্দর একটি টেবিল রানার বা টেবিলক্লথ। উৎসবের সঙ্গে মানানসই রং ও নকশার কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। পূজার সময়ে লাল, সাদা, সোনালি কিংবা মাটির রঙের টেবিল রানার ঘরে উৎসবের আবহ তৈরি করতে পারে। আবার ঘরের দেয়াল ও আসবাবের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্যাস্টেল বা হালকা রঙের কাপড়ও বেছে নেওয়া যায়।
টেবিলের মাঝখানে ছোট ফুলদানি রাখতে পারেন। তাতে তাজা ফুল কিংবা কৃত্রিম ফুল সাজিয়ে দিলে টেবিলের সৌন্দর্য বাড়বে।
রঙের সমন্বয়ে বদলে দিন পরিবেশ
ডাইনিং স্পেসের সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে রঙের সঠিক ব্যবহারের ওপর। ঘরের দেয়াল, পর্দা, চেয়ার ও টেবিলের রঙের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকলে পুরো জায়গাটি দেখতে পরিপাটি লাগে। উৎসবের জন্য নতুন করে সবকিছু কেনার প্রয়োজন নেই। আগে থেকে থাকা আসবাবের সঙ্গে মানানসই টেবিল রানার, কুশন কিংবা ছোট সাজসজ্জার সামগ্রী ব্যবহার করেই পরিবর্তন আনা যায়।
যদি ডাইনিং স্পেস ছোট হয়, তাহলে হালকা রঙের ব্যবহার ঘরটিকে তুলনামূলক খোলামেলা দেখাতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে বড় জায়গায় গাঢ় রঙের কিছু অনুষঙ্গ ব্যবহার করে আনা যায় আভিজাত্য।
আলোয় তৈরি হোক উৎসবের আবহ
আলো ডাইনিং স্পেসের পরিবেশ বদলে দিতে পারে। খাবার টেবিলের ওপর সুন্দর একটি ঝাড়বাতি বা পেনড্যান্ট লাইট থাকলে জায়গাটি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তবে নতুন আলো কেনার প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা আলো পরিষ্কার করে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ আভাযুক্ত আলো ব্যবহার করেও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করা যায়।
উৎসবের সাজে ছোট এলইডি ফেয়ারি লাইট ব্যবহার করতে পারেন। দেয়ালের এক পাশে কিংবা নিরাপদ কোনো সাজসজ্জার অংশে এগুলো লাগানো যায়। তবে আলো যেন অতিরিক্ত ঝলমলে না হয় এবং খাবার পরিবেশন বা খাওয়ার সময় চোখে অস্বস্তি সৃষ্টি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
ফুল ও প্রাকৃতিক উপকরণে সাজান
ফুলের সৌন্দর্য যেকোনো উৎসবের সাজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ডাইনিং স্পেসে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ কিংবা মৌসুমি ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন। ফুলদানিতে কয়েকটি ফুল রাখলেই টেবিলের সৌন্দর্য বাড়বে। চাইলে ছোট পাত্রে মানিপ্ল্যান্ট বা অন্য কোনো ঘরোয়া গাছও রাখতে পারেন।
চেয়ার ও বসার জায়গায় আরাম নিশ্চিত করুন
অতিথি আপ্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু সৌন্দর্য নয়, আরামও গুরুত্বপূর্ণ। ডাইনিং চেয়ারের কুশন পরিষ্কার করে নিতে পারেন। উৎসবের সঙ্গে মানানসই কুশন কভার ব্যবহার করলে ঘরের সাজে নতুনত্ব আসবে।
অতিথির সংখ্যা বেশি হলে বসার ব্যবস্থা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখুন। টেবিলের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন, যেন সবাই সহজে বসতে পারেন এবং খাবার পরিবেশন করতে সুবিধা হয়।
বাসনপত্রেও থাকুক নান্দনিকতা
খাবার পরিবেশনের বাসনপত্র ডাইনিং স্পেসের সৌন্দর্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উৎসবের দিনে প্রতিদিনের ব্যবহৃত বাসনের পাশাপাশি সুন্দর নকশার প্লেট, বাটি, গ্লাস ও পরিবেশন পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। সাদা বা হালকা রঙের বাসনের সঙ্গে রঙিন খাবার সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। আবার উৎসবের আমেজ আনতে নকশা করা সিরামিকের বাসনও বেছে নেওয়া যায়।
পরিচ্ছন্নতাই সাজের মূল শর্ত
সুন্দর ডাইনিং স্পেসের জন্য দামি আসবাব বা অতিরিক্ত সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই। বরং পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো পরিবেশই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতিথি আসার আগে টেবিল, চেয়ার, মেঝে ও জানালার আশপাশ পরিষ্কার করে নিন। টেবিলের ওপর অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ওষুধ, চার্জার কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসপত্র সরিয়ে রাখুন।
খাবার পরিবেশনের আগে টেবিলের জায়গা ভালোভাবে গুছিয়ে নিন। ব্যবহৃত টিস্যু বা ময়লা ফেলার জন্য সুবিধাজনক স্থানে একটি ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্র রাখা যেতে পারে। খাবারের গন্ধ ও ধোঁয়া জমে থাকলে জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। এতে ঘর থাকবে সতেজ ও আরামদায়ক।
অল্প খরচেই আনুন নতুনত্ব
উৎসবের জন্য ডাইনিং স্পেস সাজাতে বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। পুরোনো টেবিল রানার ধুয়ে ব্যবহার করা, ঘরে থাকা ফুলদানি নতুনভাবে সাজানো কিংবা আগের কুশন কভার বদলে দিলেই ঘরে নতুনত্ব আসতে পারে। দেয়ালের একটি অংশে ছোট ছবি বা উৎসবের সঙ্গে মানানসই সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করেও পরিবেশ আকর্ষণীয় করে তোলা যায়।
/এসএল
আরও পড়ুন
উৎসবের ভিড়ে শিশুর থাকুক নিরাপদ
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে যায় শিশুরাও। তবে উৎসবের ভিড়, দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটি এবং অপরিচিত পরিবেশে অসতর্কতার কারণে শিশুরা হারিয়ে যেতে পারে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই পূজার আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি শিশুর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। লিখেছেন মুশফিরাত
ভিড়ের সময় শিশুকে হাত ধরে রাখুন
পূজার মণ্ডপে প্রবেশের সময় এবং বের হওয়ার পথে সাধারণত বেশি ভিড় থাকে। এ সময় শিশুকে সব সময় হাত ধরে সঙ্গে রাখা জরুরি। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে হাত শক্ত করে ধরে রাখুন এবং এমনভাবে চলুন, যাতে তারা সহজেই অভিভাবককে দেখতে পায়। শিশুকে সামনে বা পাশে রাখুন, ভিড়ের মধ্যে পেছনে একা হাঁটতে দেবেন না।
শিশুকে কোলে নেওয়ার প্রয়োজন হলে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখুন এবং চারপাশের পরিস্থিতি খেয়াল করুন। বড় ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে শিশুকে নিয়ে বিপরীত দিকে হুড়োহুড়ি না করে নিরাপদ ও তুলনামূলক ফাঁকা জায়গায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
শিশুকে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য শেখান
শিশুকে আগে থেকেই তাকে নিজের নাম এবং মা-বাবার নাম শেখানো ভালো। বয়স অনুযায়ী মা-বাবার ফোন নম্বরও মুখস্থ করানোর চেষ্টা করুন। ছোট শিশুদের পোশাকের পকেটে অভিভাবকের নাম ও ফোন নম্বর লেখা একটি পরিচয়পত্র রাখা যেতে পারে। চাইলে পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যসহ একটি ছোট কার্ড শিশুর ব্যাগেও রাখা যায়।
তবে এসব তথ্য এমনভাবে রাখবেন, যাতে অপরিচিত কেউ সহজে শিশুর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে না পারে। শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, মা-বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে যেন কোনো নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে সাহায্য চায়। বয়স উপযোগী ভাষায় বিষয়টি আগে থেকেই বুঝিয়ে দিলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুর ভয় কিছুটা কমতে পারে।
হারিয়ে গেলে কী করতে হবে, তা শেখান
শিশুর সঙ্গে সহজভাবে আলোচনা করুন ভিড়ের মধ্যে মা-বাবাকে দেখতে না পেলে কী করবে। তাকে বোঝান, আতঙ্কিত হয়ে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াবে না। বরং নিরাপদ জায়গায় দাঁড়িয়ে কাছাকাছি থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী কিংবা পুলিশ সদস্যের সাহায্য চাইবে।
শিশুকে শেখানো যেতে পারে, অপরিচিত কারও সঙ্গে নির্জন জায়গায় যাবে না এবং কেউ মা-বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেই তার সঙ্গে চলে যাবে না। একই সঙ্গে শিশুকে বোঝাতে হবে, প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়া ভুল নয়। মণ্ডপে প্রবেশের সময় কোথায় নিরাপত্তাকর্মী বা তথ্যকেন্দ্র রয়েছে, তা অভিভাবকরা আগে থেকেই দেখে নিতে পারেন।
পোশাকে রাখুন সহজে চেনার ব্যবস্থা
ভিড়ের মধ্যে শিশুকে দ্রুত খুঁজে পেতে তার পোশাকের রং ও ধরন খেয়াল রাখা প্রয়োজন। উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরালে দূর থেকে শিশুকে শনাক্ত করতে সুবিধা হতে পারে। তবে পোশাক যেন আরামদায়ক হয় এবং চলাফেরায় কোনো বাধা সৃষ্টি না করে।
পূজায় শিশুদের হাতে বা গলায় অতিরিক্ত ভারী গহনা পরানো এড়িয়ে চলুন। পোশাকের লম্বা অংশ, ঝুলন্ত ফিতা কিংবা এমন অনুষঙ্গ এড়িয়ে চলুন, যা ভিড়ের মধ্যে কোথাও আটকে যেতে পারে। যায়।
সড়ক ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন
পূজার সময় মণ্ডপের আশপাশের সড়কেও মানুষের ভিড় বাড়ে। যানবাহন, মোটরসাইকেল, রিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চলাচলের মধ্যে শিশুদের নিয়ে চলাফেরা করার সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। রাস্তা পার হওয়ার সময় শিশুর হাত ধরে নির্ধারিত পারাপারের স্থান ব্যবহার করুন। কখনোই শিশুকে একা রাস্তা পার হতে দেবেন না।
মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, সিঁড়ি এবং অস্থায়ী স্থাপনার আশপাশে শিশুকে দৌড়াতে দেবেন না। কোথাও ভিড় জমে গেলে শিশুকে নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে সামনে এগোনোর চেষ্টা করবেন না। বরং নিরাপদ ও ফাঁকা পথ বেছে নিন।
শিশুকে চোখের আড়াল করবেন না
অনেক সময় ছবি তোলা, কেনাকাটা কিংবা পরিচিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিভাবকদের মনোযোগ অন্যদিকে চলে যায়। এ সময় শিশুর দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। একাধিক সদস্য একসঙ্গে ঘুরতে গেলে আগে থেকেই ঠিক করে নিন, কে শিশুর দেখাশোনা করবেন। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকলে অসাবধানতার ঝুঁকি কমে।
শিশু একটু বড় হলে তাকে নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে থাকার নিয়ম শেখান। তবে শুধু নিয়ম শেখানোর ওপর নির্ভর না করে অভিভাবকদেরও সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে হবে। মণ্ডপের ভিড়ে শিশুকে কোনো দোকান, খেলনার স্টল বা খাবারের জায়গায় একা রেখে অন্য কাজে চলে যাওয়া উচিত নয়।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন
মণ্ডপে যাওয়ার আগে কাছাকাছি কোথায় পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী বা প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে, তা জেনে রাখা ভালো। শিশু হারিয়ে গেলে দ্রুত মণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এবং নিরাপত্তাকর্মীদের জানান। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নিন।
/এসএল
আরও পড়ুন
বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক শেফ দিবস পালিত
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ) আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর লে মেরিডিয়ান হোটেলে দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল শেফস ডে ২০২৬’ উদযাপনের আয়োজন করে। বর্ণাঢ্য আয়োজনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তা খাতের শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘FoodExplorers’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন হেলাল।
বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)-এর সভাপতি শাহিদ শাহিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ডশেফসের সনদপ্রাপ্ত মাস্টার শেফ ও বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা নাজিম খান সংগঠনকে সুসগঠিত করার নানা পরামর্শ প্রদান করেন।

সেইসঙ্গে আয়োজনে ছিল রন্ধনশিল্পভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম, সম্মাননা প্রদান, পেশাদার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শেফদের বিশেষ পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে সেলিব্রিটি শেফ, ফুড ইনফ্লুয়েন্সার, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশগ্রহণ করেন। আয়োজনটিতে নেসলে প্রফেশনাল সহযোগী হিসেবে সম্পৃক্ত ছিল।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বিসিএফ দেশের সকল পেশাদার শেফ, রন্ধনশিল্পী, কালিনারি শিক্ষার্থী এবং খাদ্য ও আতিথেয়তা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানায়। বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই বিসিএফের অঙ্গীকার।
আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের রন্ধনশিল্পকে বিশ্বদরবারে আরও সুপরিচিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
আজ আন্তর্জাতিক শেফ দিবস : রাজধানীতে নানা আয়োজন
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৫ এএম
স্বাদ, সৃজনশীলতা ও দক্ষতার মেলবন্ধনে রন্ধনশিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান শেফরা। তাঁদের হাতের জাদুতে সাধারণ উপকরণ হয়ে ওঠে বিশেষ পদ, আর খাবার হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের আবেগ প্রকাশের মাধ্যম। বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পের এই কারিগরদের অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতিবছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। লিখেছেন মুশফিরাত তাসকিন
রন্ধনশিল্পের স্বীকৃতি
প্রতিবছর ২০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। ২০০৪ সালে ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিজের (ওয়ার্ল্ডশেফস) তৎকালীন সভাপতি বিল গ্যালাঘারের উদ্যোগে দিবসটির সূচনা হয়। এই দিবসের মূল লক্ষ্য শেফদের পেশাগত অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন প্রজন্মকে রন্ধনশিল্পে আগ্রহী করে তোলা এবং খাবার ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
একজন শেফের কাজ কেবল সুস্বাদু খাবার তৈরি করা নয়। খাবারের গুণগত মান বজায় রাখা, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উপকরণের অপচয় কমানো এবং রান্নাঘরের ব্যবস্থাপনা সামলানোও তাঁর দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে পেশাদার রান্নাঘরে সময় ব্যবস্থাপনা, দলগত কাজ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শেফরা খাদ্য ও আতিথেয়তা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
প্রতিটি দেশের খাবারের রয়েছে নিজস্ব স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের রন্ধন ঐতিহ্যেও রয়েছে বৈচিত্র্যের সমৃদ্ধ ভান্ডার। ভাত, মাছ, ডাল, ভর্তা, মাংসের নানা পদ, পিঠাপুলি ও মিষ্টান্ন প্রতিটি খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অঞ্চলভেদে আলাদা রন্ধনরীতি ও পারিবারিক স্মৃতি। দেশীয় উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী রান্নার কৌশলকে নতুনভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শেফরা এই ঐতিহ্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক রন্ধনশৈলী, আধুনিক রান্নার প্রযুক্তি এবং নতুন উপকরণের ব্যবহারও দেশের রেস্তোরাঁ ও হোটেলশিল্পে বৈচিত্র্য এনেছে। দেশীয় স্বাদকে আন্তর্জাতিক পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত করা কিংবা বিদেশি খাবারে স্থানীয় উপকরণের ব্যবহার এ ধরনের সৃজনশীল প্রয়াস রন্ধনশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করছে। ফলে শেফদের ভূমিকা এখন রান্নার গণ্ডি পেরিয়ে খাদ্যসংস্কৃতির বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পেশা হিসেবে শেফ হওয়ার সম্ভাবনা
হোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, ক্রুজশিপসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ শেফদের কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ফুড কনসালট্যান্ট, রেসিপি ডেভেলপার, ফুড কনটেন্ট নির্মাতা কিংবা নিজস্ব খাদ্যপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথও উন্মুক্ত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাবারভিত্তিক কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ায় শেফদের সৃজনশীল কাজ বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই পেশায় সফল হতে প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, প্রশিক্ষণ, ধৈর্য ও শেখার মানসিকতা। স্বাদ সম্পর্কে ধারণার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, উপকরণ সংরক্ষণ এবং রান্নাঘরের শৃঙ্খলা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনও জরুরি। একজন দক্ষ শেফের পরিচয় তৈরি হয় তাঁর অভিজ্ঞতা, কাজের মান এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার প্রচেষ্টায়।
ঢাকায় আন্তর্জাতিক শেফ দিবসের আয়োজন
আন্তর্জাতিক শেফ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ) ২০ অক্টোবর ঢাকার লে মেরিডিয়ান হোটেলে দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল শেফস ডে ২০২৬’ উদযাপনের আয়োজন করেছে। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। দেশের রন্ধনশিল্প ও আতিথেয়তা খাতের শেফদের অবদানকে সম্মান জানানো এ অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী বেগম আফরোজা খানম রিতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ ছাড়া নেসলে বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দীপাল আবেয়উইকরেমা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেঙ্গলি, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক মহিউদ্দিন হেলাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন (বিসিএফ)-এর সভাপতি শাহিদ শাহীন জানান, এবারের আয়োজনে থাকবে রন্ধনশিল্পভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম, সম্মাননা প্রদান, পেশাদার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শেফদের বিশেষ পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে সেলিব্রিটি শেফ, ফুড ইনফ্লুয়েন্সার, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও পেশাদার পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও অংশ নিবেন।
