চলতি অর্থবছরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সংগ্রহ কর্মসূচির আকার ৮ হাজার কোটি টাকা। নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছে দিতে প্রায় ৯ হাজার অনুমোদিত ডিলারের পাশাপাশি বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা কমাতে উপকারভোগীর তথ্য যাচাই থেকে পণ্য সরবরাহ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে আয়োজিত ‘ট্রেড উইথ টিসিবি’ শীর্ষক বিজনেস টকে এসব কথা জানায় টিসিবি। সংস্থাটি সেবা সহজ করা এবং ক্রয় কার্যক্রমে দরদাতা ও সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে টিসিবির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী মো. খালেদ হোসেন মাহবুব। স্বাগত বক্তব্য দেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ ফয়সল আজাদ।
অন্যদের মাঝে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. বদরুন্নেসা আহমেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, চায়না বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, অস্ট্রেলিয়ার এমসিজি ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্ক শ্যান গোল্ডরিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শুধু ডিজিটাল কার্ড চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা জরুরি। টিসিবির কার্যক্রমে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের বাড়তি সুবিধা নেওয়ার ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাজারের অস্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের এ সময়ে দেশের কোটি কোটি নিম্নআয়ের মানুষের সুরক্ষায় টিসিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা বলেন, ডিজিটাল রূপান্তর, দ্রুত পেমেন্ট সুবিধা ও সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রশংসনীয় হলেও এর কার্যক্রমের পরিধি আরো বাড়ানো এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে। এ কর্মসূচির বাইরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছাতে কার্যক্রমের পরিধি ও পণ্যের বান্ডিল বাড়ানো প্রয়োজন।
টিসিবিকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত, কার্ডের কার্যকারিতা আরো টেকসই এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা সেবা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ভোক্তাদের মতামত বা ফিডব্যাক নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
টিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজিটাল রূপান্তরের পর টিসিবি বর্তমানে সাত হাজার ৩০০ ডিলারের মাধ্যমে ৬৪ জেলায় ৪২টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সংস্থাটির ৪৮টি গুদামের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৫১ হাজার ৩০০ টন। এছাড়া সংস্থাটি মোট ছয় লাখ ৫০ হাজার টন পণ্য সরবরাহ করছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় ক্রয়ের ৮৬ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক ক্রয়ের ৫৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন হয়েছে।
আসন্ন রমজানে বিশেষ পাঁচটি পণ্যের চাহিদা মেটাতে ২৬ হাজার টন পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ৫২০টি ট্রাক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন ৪০০ ক্রেতাকে সেবা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে টিসিবির অংশীজন, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিল্পপতি ও পণ্য বাজারজাতকারীরা সংস্থাটির কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
