বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বাঞ্চলীয় ১১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ তদারকির দায়িত্বে থাকা আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক (উপসচিব পদমর্যাদা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র মো. ফারুক হাসান।
তার এই নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ নিজ প্রোফাইল থেকে এ ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সারজিস আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন- ‘একটা ন্যাশনাল পার্টির মুখপাত্র 'উপসচিব' পদমর্যাদায় চাকরি করবে! পার্টি কতটা দেউলিয়া হলে হীনমন্যতা থেকে নেতারা এই কাজ করতে পারে!’
অন্য দিকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে ফারুক হাসানের একটি ছবি শেয়ার করে খোঁচা দিয়ে লেখেন- ‘বিএনপির গণঅধিকার পরিষদ শাখার মাঝারি সারির কর্মী ফারুক হোসেনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা থাকা সত্ত্বেও, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তাকে বিদ্যুৎ খাতে পরিচালক নিয়োগ দেওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।’
তিনি লিখেছেন, ‘সবার জ্ঞাতার্থে বলি, গত এক বছরে গুলশান অফিসে তিনি বিদ্যুৎ বিষয়ে পিএইচডি, বিরোধী দলকে গালাগালি বিষয়ে মাস্টার্স এবং কীভাবে বিদ্যুতের বিল বাড়িয়ে গুলশান অফিসের খরচ জোগানো যায়, সে বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন!’
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, ‘এমন বহুমুখী যোগ্যতার পর তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাই তো অন্যায়! যারা এ কাজ করে যাচ্ছেন, তারা সাংবিধানিকভাবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।’
এ দিকে নিজের নিয়োগ নিয়ে ফারুক হাসান বলেছেন, ‘আমার নিয়োগের বিষয়ে অনেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রচার করছেন। এটা আসলে অন্যান্য চাকরির মতো কোনো গ্রেডের সরকারি চাকরি নয়। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দিষ্ট এরিয়া পরিচালনায় সরকারের একজন প্রতিনিধি বলা যেতে পারে।’
তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনায় মূলত দুটি ফাংশন থাকে। একটি হলো অপারেশনাল, যেটি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করে এবং অপরটি হলো সরকার কর্তৃক সৃষ্ট বোর্ড। এই বোর্ডটি হলো নিয়ন্ত্রক সংস্থা, যেটির কাজ প্রতিষ্ঠানের দেখাশোনা করা। দেশের পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলার বিদ্যুৎ সাপ্লাই হয় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লি. থেকে। এটির আন্ডারে অনেক সাবস্টেশনও আছে। এই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ডিরেক্টরস-এর একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি।’
যেভাবে ফারুক হাসানের রাজনীতিতে উত্থান
২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি থেকে আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু। ২০২৩ সালের জুনে দলটিতে বিভক্তি দেখা দিলে ফারুক হাসান ড. রেজা কিবরিয়া অংশের ভারপ্রাপ্ত সদস্য-সচিব হন। পরে ড. রেজা কিবরিয়া 'আমজনতার দল' গঠন করলে ফারুক হাসান মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের অংশে সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে ফারুক হাসান নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদে যুক্ত হন। তখন তাকে দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদমর্যাদা ও দলীয় মুখপাত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে তিনি গণঅধিকার পরিষদের 'ট্রাক' প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ হাজার ৮৪৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎখাত উন্নয়ন ও সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০০০ সালের ২৮ জুন আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) নিবন্ধিত হয় এবং ২০০৩ সালে এটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
