শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনে রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে বরণ করে নিতে নতুন সাজে সেজে উঠছে নগরী। সড়ক সংস্কার, রোড ডিভাইডারে রঙের ছোঁয়া, বৃক্ষরোপণ ও বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে জোরেশোরে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে। একই সঙ্গে তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ডিসির মোড় থেকে চেকপোস্ট পর্যন্ত সড়কের চলমান সংস্কারকাজে গতি বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সড়ক উন্নয়নের কাজ দুই দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে তৎপরতা চলছে। এদিকে রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে যাবেন। এ উপলক্ষে মন্দিরটিকে আরও জাঁকজমকভাবে সাজানো হচ্ছে। নগরীর সড়ক বিভাজকগুলোতে লাল-সাদা রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধনে লাগানো হচ্ছে গাছ। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিন্দিতা কুন্ডু বলেন, “প্রথমবারের মতো দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আসছেন আমাদের সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে। তাই আমরা খুবই আনন্দিত।”
বিজয় চন্দ্র বলেন, সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর রংপুর সফর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাই।
রাজশাহী অঞ্চলে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদ্যাপন করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুর্গা মা সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবেন।
নিরাপত্তায় বিজিবির চারটি টহল দল
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে বিজিবির ৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরের ধর্মসভায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাবেন। এ উপলক্ষে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে চারটি টহল দল নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সঙ্গে বিজিবির সমন্বয় হয়েছে। নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় বিজিবির জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিজিবির একটি টহল দল প্রধানমন্ত্রীর আগমন থেকে প্রস্থান পর্যন্ত অবস্থান করে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী নিজে উপস্থিত থেকে নগরীর উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ পরিদর্শন করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন রংপুরের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে দলীয় নেতাকর্মীসহ রংপুরবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
