পলাশ মিয়া:
বাংলাদেশে দ্রুত রূপান্তরশীল আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে চরম সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে প্রথাগত পরিবার ও দাম্পত্য প্রথা। গত দেড় দশকে দেশে বিবাহবিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা এখন আর শুধু শহরাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামীণ সমাজেও।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতি হাজারে বিচ্ছেদের হার ০.৬ থেকে ১.১-এর মধ্যে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। তবে ২০২২ সালে তা একলাফে ১.৪-এ গিয়ে পৌঁছায়, এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাঙনের নেপথ্যে কাজ করছে বহুমুখী উপাদান:
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: নারীদের ক্রমবর্ধমান কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা তাঁদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ সুগম করেছে। ভার্চুয়াল আসক্তি ও পরকীয়া: সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পারষ্পরিক অবিশ্বাস ও দূরত্ব বাড়ছে।
সহনশীলতার অভাব: চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক মানসিকতার কারণে দাম্পত্য জীবনে ছাড় দেওয়ার প্রবণতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। পারিবারিক এই ভাঙনের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের ফলে চরম মানসিক নিরাপত্তাহীনতা, একাকিত্ব ও বিষণ্ণতায় ভুগছে তারা, যা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
