দেশের প্রিমিয়াম ট্রেনগুলির মধ্যে একটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস। আর সেই ট্রেন লক্ষ্য করে পাথরবৃষ্টি! সেই ঘটনার তদন্তে নেমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল আরপিএফ। গুজরাটের সুরাট এবং উত্রানের মাঝামাঝি একটি এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে খবর। তবে কেন পাথর হামলা? সেই ঘটনার তদন্তে নেমে একেবারে চক্ষুচড়ক তদন্তকারীদের। দফায় দফায় জেরায় ধৃত তিনজন জানায়, তাঁরা নাকি শুধুমাত্র মজা করতেই বন্দে ভারত লক্ষ্য করে পাথর হামলা চালিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে ধৃত তিনজনকে জেরা করছে আরপিএফ। এদিকে পাথর হামলায় বন্দে ভারতের একাধিক জানলার কাঁচ ভেঙে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার উত্রান স্টেশনের কাছে বন্দে ভারত লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে একের পর এক পাথর। ট্রেনটি উদয়পুর থেকে সুরাট যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে। পাথরের আঘাতে কামরার দু’টি কাচ এবং প্যান্ট্রির কাচের প্যানেল ভেঙে যায়। ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যাত্রীরা। তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। আসেন রেল পুলিশের কর্তারা। শুরু হয় ঘটনার তদন্ত। অভিযুক্তদের খোঁজে ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের সিসিটিভি খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই সময়েই ওই তিনজনের কীর্তি ধরা পড়ে জানা গিয়েছে। এরপরেই অভিযান চালিয়ে গোলুকুমার চৌধুরী, সন্দেশ কুমার ও সন্তোষ মুখিয়া নামে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে আরপিএফ।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নিছক মজা করতেই যে ট্রেনে তাঁরা পাথর হামলা চালিয়েছিলেন তাও জানিয়েছেন বলে সূত্রের জানা গিয়েছে। তবে এভাবে যে জানলার কাঁচ ভেঙে যাবে তা বুঝতে পারেননি বলে জেরায় দাবি ধৃতদের। তবে এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে দফায় দফায় ধৃত তিনজনকে জেরা করছে আরপিএফ। এদিকে পাথর বন্দে ভারতের সি-৬ কামরার একাধিক আসনের কাচ ভেঙে গিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ট্রেনের প্র্যান্ট্রি কারের কাচও। আরপিএফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
