সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরম আরাধ্য দেবী দুর্গার বিদায়লগ্নে আজ শুভ বিজয়া দশমী। ভক্তদের অশ্রুসজল নয়ন, অঞ্জলি আর সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে কৈলাসে পতিগৃহে ফিরে যাচ্ছেন দেবী দুর্গতিনাশিনী। বিকেলের শোভাযাত্রা শেষে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে ছয় দিনব্যাপী এই উৎসবের।
২১ অক্টোবর বুধবার ভোর থেকেই রাঙ্গামাটির ৪৭টি পূজা মণ্ডপে বিজয়া দশমীর নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় দশমীর বিশেষ অঞ্জলি। প্রতিটি মণ্ডপে ভক্তরা সকাল থেকে উপবাস থেকে মা দুর্গার চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। দেবী মায়ের চরণ ছুঁয়ে আকুল প্রার্থনায় বিশ্বশান্তি, দেশের সমৃদ্ধি ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন সব বয়সের নারী-পুরুষ।
এর আগে দেবী দর্শনে গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত রাঙামাটির মণ্ডপগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঢাকের বাদ্য, কাঁসরের ঘণ্টা আর আলোকসজ্জায় পুরো পাহাড়ি শহর রূপ নেয় এক উৎসবের নগরীতে।
দুপুরের নির্ধারিত সময়ে দেবী দুর্গার ‘দর্পণ বিসর্জন’-এর মাধ্যমে শাস্ত্রীয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর চলছে মঙ্গলঘট স্থানান্তরের প্রস্তুতি। বিকেলে মণ্ডপগুলো থেকে সাড়ম্বরে বের করা হবে এক বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করে এই শোভাযাত্রা গিয়ে মিলবে কাপ্তাই হ্রদের তীরে। সন্ধ্যায় শান্ত হ্রদের জলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটবে পাহাড়ের এই শারদীয় দুর্গোৎসবের।
মায়ের চরণে বিদায়ী প্রণাম জানিয়ে ও মিষ্টিমুখ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠেছেন কোলাকুলি আর বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ে। বিষাদের সুর থাকলেও ভক্তদের মনে এখন শুধুই এক বছরের ব্যাকুল অপেক্ষা—‘আসছে বছর আবার হবে’।
