“সংবাদটা পাওয়ার জন্য এবং আসলেই কী ঘটেছে, তাদের বিস্তারিত কী, তারা কবে কাজ করতে গিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের তাদের পরিচয়টা কী, এইসব বিস্তারিত জানার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।”
মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াকে শিক্ষা হিসেবে নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “যখন একটা আইনের ব্যত্যয় ঘটে, তখন কিন্তু আমাদের ওই টাইমে বাংলাদেশের নাগরিকের জন্য আমার খুব একটা করার কিছু থাকে না। আমাদের বিদেশিরাওতো অনেকে এসে বাংলাদেশের যদি কোনো অন্যায় করে, তা বাংলাদেশের আইন-কানুন অনুযায়ী তাদের জেল হয়, তাদের জেলে যেতে হবে।
“তো আর সেটাতো এখন যে দেশে সেই দেশের আইন-কানুনতো প্রিভেইল করবে। সেই দেশের আইনই প্রিভেইল করবে। সুতরাং এটাও আমাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে, আমি মনে করি। তবে এটা দুর্ভাগ্যজনক অবশ্যই, কেননা এই ধরনের আর খবর পেতে আমরা আশা করি না এবং এই ধরনের খবর আমরা পেতেও চাই না।”
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনাটা কখন কীভাবে ঘটেছে, সেটা আমাদের মিশন অবগত ছিল না। এখন কেন ছিল না, কেন অবগত হয় নাই, কেন হয় নাই, সেটা বিস্তারিত এখন আমি যেহেতু বিস্তারিত আমাদেরকে সৌদি সরকার জানায়নি, সেজন্য আমি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
“যখন আমি জানতে পারব, আমি আরো পরিষ্কারভাবে বলতে পারব আপনাদেরকে। তবে জানলে সেটা হয়তো সে প্রস্তুতিটা আমরা নিতে পারতাম, অবশ্যই।”
বুধবার মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘আজেল নিউজ’ এ খবর দেয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ লিপ্ত থাকার অভিযোগে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
এ বিষয়ক এক প্রশ্নে শনিবার প্রতিমন্ত্রী শামা বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরব সরকারের কাছ থেকে এখনও কিছু জানতে পারি নাই। আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে। তবে যতটুক বুঝতে পারি যে এতদিন যেহেতু বহু বছর ধরেই তো প্রবাসী আমাদের ভাই-বোনগুলো কাজ করছে।
“তো, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে যতটুক জানি যে, ওখানে সৌদি আরবের একটি নিজস্ব আইনি কাঠামো আছে। সে আইনি কাঠামোতে যখন কেউ কোনো অন্যায় করে বা গর্হিত কাজ করে, তাদের আইন অনুযায়ী তারা সেই রকমভাবেই সাজাটা কার্যকর হয়। তো আমরা ভাবছি যে সেটাই হয়েছে।”
জেদ্দার শ্রম কল্যাণ উইং থেকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বার্তা আসার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সেখানে যেটা বলা হয়েছে যে মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে ‘ব্যভিচারে লিপ্ত’ হয়েছিল এবং সৌদি আরবের আইনি কাঠামোতে সেটা তারা হয়তো গর্হিত কাজ হিসেবে দেখেছে এবং তাদের আইন অনুযায়ী তাদের আদালত এই ব্যবস্থা নিয়েছে।
“সেটা মনে হচ্ছে যে এইরকমই কোনো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা এখনও কোনো খবর সংবাদ পাইনি। সংবাদটা পাওয়ার জন্য এবং আসলেই কী ঘটেছে, তাদের বিস্তারিত কী, তারা কবে কাজ করতে গিয়েছে, তাদের বাংলাদেশের তাদের পরিচয়টা কী, এইসব বিস্তারিত জানার জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।”
