মিজানুর রহমান, (ঝিনাইগাতী) শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর গারো পাহাড়ে কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে মিষ্টি আনারস চাষ। বন্য হাতির আক্রমণে ধানসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্তে কৃষকেরা আনারস চাষে বাজিমাত করেছেন। তাই তারা আনারস চাষে ৫ উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর জেলার ৩ উপজেলায়ই গারো পাহাড়ে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিকভাবে রসালো ও মিষ্টি আনারসের চাষে সফলতার মুখ দেখেছেন।
দেখছেন নতুন করে স্বপ্ন। জলডুবি জাতের আনারস রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারেও রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই আনারস দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, ২ বছর আগে টাঙ্গাইলের মধুপুরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির গারো সম্প্রদায়ের পিটার ডালবট নামে ১ আনারস চাষী শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের উত্তর বাঁকাকূড়া গ্রামে তার শ্বশুর হালদ্রা সাংমার ৬ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে শুরু করেন আনারস চাষ। প্রথম অবস্থায় চিন্তায় পড়লেও পরবর্তীতে ফলন দেখে আশায় বুক বাঁধেন পিটার। আনারস যখন পাকা শুরু হয়। তখন দেখেন মধুপুরের চেয়ে অনেক সুস্বাদু ও রসালো হয়েছে। ওই বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ, সেচ, সার, পরিচর্যা বাবদ খরচ হয় ১১ লাখ টাকা। পুরো বাগানের সোয়া লাখ পিস আনারস ১৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তার পর থেকেই আশপাশের অনেকেই ওই বাগানের দেখাদেখি আনারস চাষে আগ্রহী হয়ে এবার বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করেছেন।
কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফুল আলম দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি কে বলেন, গত বছর আনারস চাষে ভাল লাভবান হয়েছি। এবছর ৮ একর জমিতে দ্বিতীয়বারের মতো আনারস চাষ করেছি। এবছর প্রায় ২ লাখ চারা রোপণ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। ধান বা অন্যান্য ফসল বন্য হাতির আক্রমণে ধ্বংস করে। কিন্তু আনারস নিরাপদ ও লাভজনক। গতবছরের ন্যায় এবছর ও ভালো লাভের আশা করছি। ঝিনাইগাতী উপজেলার পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামের কৃষক জমশন ম্রং বলেন, এবছর ২০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকা। এবছর ও দ্বিগুণ লাভ হবে আশা করি। সে আগামী বছর আরও বড় পরিসরে আনারসের চাষ করবেন। তিনি বলেন, আমার আনারস বিক্রির জন্য বাজারে নিতে হয়না। সব ক্ষেতেই বিক্রি হয়ে যায়। জেলা শহর থেকে বেড়াতে আসা বুলবুল বলেন, শেরপুর জেলায় আনারস চাষ হয়। এই প্রথম দেখলাম। মিষ্টি রসালো আনারস শেরপুরে না খেয়ে দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। নিজে বাগান হতে কেটে খেলাম। মধুর চেয়েও মিষ্টি। শেরপুরের গারো পাহাড়ে অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে। সে জমিগুলোতে আরও বড় পরিসরে আনারস চাষ করা যেতে পারে। গারো পাহাড়ে দেওয়ানগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা মাসুদ আনারস খেয়ে বলেন, সাইজ ছোট হলেও দারুন মিষ্টি। গারো পাহাড়ের বাণিজ্যিকভাবে আনারসের ব্যাপক চাষ করা উচিৎ। শেরপুরে ব্যাপকভাবে এই আনারস চাষ হলে হাতের নাগালে সুমিষ্ট আনারস অল্প দামে পাবো। এতে প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার আনারস চাষীরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
“শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) হুমায়ুন কবীর দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি কে বলেন, শেরপুরে সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আনারস চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।”
“ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার প্রতিনিধি কে বলেন, ঝিনাইগাতী গারো পাহাড়ে আনারস চাষে সফলতা দেখে এখন নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবরদীতেও এই চাষ ছড়িয়ে পড়ছে। তবে বন্য হাতির আক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া গেলে পাহাড়ি অঞ্চল শিগগিরই দেশের অন্যতম প্রধান আনারস উৎপাদন অঞ্চলে রূপ নেবে বলে মনে করি।”
