- ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
সুকান্ত বসু, কলকাতা: আজ থেকে ১৩৩ বছর আগে পিয়ারিলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই তৈরি হয়েছিল নিস্তারিণী কালীমাতার মন্দির। উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র রাজবল্লভপাড়ায় মাথা উঁচিয়ে রয়েছে এই মন্দির। কথিত আছে, পিয়ারিলালবাবু স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দিরেই শুরু করেছিলেন দেবী দুর্গার আরাধনা। নিজের হাতেই গড়েছিলেন একচালার মাতৃপ্রতিমা। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের সদস্য ও পাড়া-প্রতিবেশীরা ওই দেবী মূর্তি দেখে অবাক। দেবীর রূপ ও ছটা যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসছে। এই দেবী মূর্তি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু লোক এসেছিলেন। মৃৎশিল্পী না হয়েও পিয়ারিলালবাবু কীভাবে গড়লেন এত সুন্দর প্রতিমা? এই প্রশ্নকে ঘিরেই তৈরি হয় কৌতূহল। দশমীর দিনে দেবীকে নিরঞ্জনের সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, প্রতি বছর মন্দিরেই দেবী দুর্গার আরাধনা করবেন। সেই থেকেই শুরু। তাঁর মৃত্যুর পর বংশ পরম্পরায় সেই পুজো আজও স্বমহিমায় হয়ে আসছে। এখন অবশ্য পটুয়াপাড়া থেকে সাড়ে পাঁচ ফুটের একচালার প্রতিমা এনে পুজো করা হয় মন্দিরে। প্রতিমা শিল্পী শান্তনু পাল। এই পুজোয় জাঁকজমক না থাকলেও রয়েছে এক রীতি। তা হল সপ্তমী থেকে দশমী— মা কালীর আরাধনার পরই শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা।
নিস্তারিণী কালীমন্দিরে সন্ধিপুজোয় প্রতিবছর নিয়ম করে দেবী দুর্গাকে নিবেদন করা হয় ১০৮টি পদ্ম। জ্বালানো হয় ১০৮টি বাতি। এখানে কাঠামো পুজো হয় না। দশমীর দিন মাকে নিবেদন করা হয় পান্তা ভাত, কচুশাক, কচুর লতি, ডাল, চাল কুমড়োর তরকারি, পাঁচ রকম সবজি ভাজা, চাটনি প্রভৃতি। নবমীতে মাকে নিবেদন করা হয় মাছ ভোগ। অন্যান্য দিন ভোগের তালিকায় থাকে নানা ধরনের ফল ছাড়াও খিচুড়ি, পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, তরকারি, আলুর দম, পনির, পায়েস, চাটনি, গাওয়া ঘিয়ের লুচি ও নানা ধরনের মিষ্টি। এছাড়া পুজোয় মাকে দেওয়া হয় নারকেলের নাড়ু। বাড়ির মহিলারাই নাড়ু তৈরি করেন। এক সময় ফল বলি দেওয়া হত। এখন সেসব পাট চুকে গিয়েছে। বলিপ্রথা বন্ধ হয়েছে। মায়ের কাছে গোটা ফল নিবেদন করা হয়। তবে মন্দিরের সামনে আজও স্বমহিমায় রয়ে গিয়েছে লাল রঙের হাঁড়িকাঠটি। প্রতি বছর মহাষ্টমীর দিন মন্দিরে আসা মানুষজন ও পথচলতি মানুষ প্রসাদ পেয়ে থাকেন। নিরঞ্জনের দিন বাড়ির মেয়েরা মাকে মিষ্টি ও পান দিয়ে বরণ করেন। লাল পাড়ের শাড়ি পরে গঙ্গার ঘাটে গিয়ে মাকে নিরঞ্জন করেন তাঁরা। চলে সিঁদুর খেলা। নিজস্ব চিত্র
