১৯০৯ সালে জাপান থেকে পবিত্র মক্কা নগরীতে হজপালনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন উমর ইয়ামাওকা। তিনিই প্রথম জাপানি, যার হজপালনের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। জাপানে ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসে তার এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ইয়ামাওকা মুসলিম পণ্ডিত আবদুর রশিদ ইবরাহিমের সঙ্গে হজযাত্রা করেন। ইবরাহিম জাপান সফর করেছিলেন এবং দেশটির সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের এই যাত্রার সময় জাপানের সমাজের বড় একটি অংশের কাছে ইসলাম ছিল অপরিচিত ধর্ম।
হজপালনের মধ্য দিয়ে ইয়ামাওকা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্রে পৌঁছান। এ সফরে জাপানের বাইরের মুসলিম সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পান তিনি।
১৯১০ সালে জাপানে ফিরে ইয়ামাওকা তার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। ১৯১২ সালে প্রকাশিত জাপানি ভাষার ওই বইয়ে আরব ভূখণ্ড ও তার ভ্রমণ করা পবিত্র স্থানগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে জাপানি পাঠকেরা আরব অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পান।
সে সময় জাপানের সঙ্গে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর যোগাযোগ ক্রমেই বাড়ছিল। পর্যটক, পণ্ডিত ও ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে জাপানি সমাজে ইসলাম ও এর ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি হতে থাকে।
তবে উমর ইয়ামাওকা ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম জাপানি ছিলেন না। জাপানের প্রথম মুসলিম হলেন- শোতারো নোদা। অটোমান সাম্রাজ্যের সংরক্ষিত নথিপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণায় তাকে ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম জাপানি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
নোদা ছিলেন একজন জাপানি সাংবাদিক। ১৮৯১ সালে তিনি অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলে যান। সেখানে অবস্থানকালে তুর্কি ভাষা, অটোমান ইতিহাস ও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা করেন। একই বছর ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘আবদুল হালিম’ নাম গ্রহণ করেন।
২০০৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় গবেষক নোবুও মিসাওয়া ও গোকনুর আকচাদাগ অটোমান তুর্কি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে নোদার ইসলাম গ্রহণের তথ্য যাচাই করেন। তাদের গবেষণায় দেখা যায়, ঐতিহাসিক নথির মাধ্যমে তার ধর্মান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত।
উমর ইয়ামাওকা ও শোতারো নোদার জীবনকাহিনি জাপান ও মুসলিম বিশ্বের প্রাথমিক যোগাযোগের ভিন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
নোদার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ১৮৯১ সালের। অন্যদিকে, ইয়ামাওকার হজযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় ১৯০৯ সালে। ইয়ামাওকার সফর জাপানের সঙ্গে মক্কার ধর্মীয় যোগাযোগের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। আর নোদার ঘটনা প্রমাণ করে, এর আগেই জাপানের মানুষের সঙ্গে ইসলামের যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল।
দুই ব্যক্তির অভিজ্ঞতা জাপানে ইসলামের প্রাথমিক বিকাশ এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
