আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত জনসভায় মুসলিমদের অন্যতম সম্মানিত নাম ‘মোহাম্মদ’ নিয়ে কটাক্ষ এবং বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বক্তব্য চলাকালে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়েও ঠাট্টা-তামাশা করেন।
আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে লক্ষ্য করে এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল।
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আপনারা তো জানেনই, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে যদি আপনার মনে সংশয় থাকে, তবে তাকে স্রেফ ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাক দিন। আপনার সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ! বলুন ‘হ্যালো মোহাম্মদ’। আমি বহু বছর ধরে এমনটি করে আসছি এবং আমি কখনোই ভুল প্রমাণিত হইনি।
বিশ্বের প্রায় সমস্ত মুসলিম পরিবারেই মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার অংশ হিসেবে সন্তানের নাম ‘মোহাম্মদ’ রাখার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। এটি মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নামগুলোর একটি।
একই সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিদ্রুপ করেন। তিনি বলেন, ইরান পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না। এরপর তিনি কাল্পনিকভাবে একাধিক ‘মোহাম্মদ’ নামের ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসা করার ভান করেন যে তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট হতে চান কি না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সাল থেকে মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নির্বাচানি প্রচারণায় ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুনে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে থেকে খুব একটা জোরালো সাড়া বা করতালি পাওয়া যায়নি।
অধিকার রক্ষা আন্দোলনকর্মী এবং আন্তর্জাতিক মুসলিম পরামর্শক সংগঠনগুলো ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে তার রাজনৈতিক প্রচারণায় মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও ঘৃণাত্মক বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণা মৌসুমে সোমালি-আমেরিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের মুসলিম মার্কিন প্রার্থীদের লক্ষ্য করে ট্রাম্প আক্রমণাত্মক বক্তব্য বাড়িয়েছেন। যার মধ্যে মার্কিন সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদ এবং মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমর অন্যতম।
ভাষণে ট্রাম্প আবারও নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার ৭ মাস পর তিনি এই বক্তব্য দিলেন।
চলতি বছরের শুরুতে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স (সিএআইআর) প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে দমন-পীড়নের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
