সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
Published on
:
2 min read
প্রতিবাদের ভাষা এক। কণ্ঠ সমবেত ছিল না। নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে আন্দোলনের সময় থেকেই তা দেখা যাচ্ছিল। সম্প্রতি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তা আরও প্রকট হয়েছে। কারণ একই হলেও আলাদা আলাদা প্রতিবাদ করছে কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। তার জেরে জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা শুরু হয়, রাহুল গান্ধী বুঝেশুনেই আরশোলাদের থেকে দূরত্ব রচনা করছেন? সেই জল্পনা আরও জলবাতাস পেল বুধবার।
‘নিষিদ্ধ’ যন্তর মন্তরে গিয়ে তিরঙ্গা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার সকালে নিম্ন আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই গ্রেপ্তারির নিন্দা করে রাহুল এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধেছেন ঠিকই। কিন্তু সেখানে সিজেপি-র নামোচ্চারণ করেননি। রাহুল লিখেছেন, ‘যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তিরঙ্গা ওড়ানো অপরাধ নয়। এর জন্য কাউকে জেলে পাঠানো চরম কাপুরুষতা। ছাত্র, যুব, সাংবাদিক এবং বিরোধী জোট— সকলের ব্যানার আলাদা হলেও উদ্দেশ্য একটাই। সমস্ত প্রতিবাদ একটি বিন্দুতেই মিলিত হচ্ছে। নাগরিকরা তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার দাবি করছেন। যন্তর মন্তর দেশের মানুষের। আমরা তা পুনরুদ্ধার করবই।’ তবে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অবশ্য নাম করেই রাহুলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সৌরভ-আশুতোষের গ্রেপ্তারির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার জন্য।
যদিও কংগ্রেসের একাংশের মতে, এ ক্ষেত্রে আলাদা করে সিজেপির নাম নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ এখানে গ্রেপ্তারিই মুখ্য বিষয় ছিল। সৌরভ বা আশুতোষ নয়। তা ছাড়া রাহুল তাঁর এক্স বার্তা সকলকেই একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তাতে ছাত্র-যুব বলতে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই সিজেপি-র নেতা-সমর্থকদের কথাও বলেছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বিরোধী আন্দোলনের সময়েও ককরোচ আন্দোলন থেকে দূরত্ব রচনা করেছিলেন রাহুলের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিল। এমনকী আইসা নেত্রী নেহা বোরাকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকও করেছিলেন রাহুল। কিন্তু যন্তর মন্তরে তাঁকে বা বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে দেখা যায়নি। একই ঘটনা দেখা গিয়েছে গত ১০ অক্টোবরে যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে। ঘটনাচক্রে, সে দিন সিজেপি-র আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হয়েছিল মমতা-কেজরিওয়ালও। একই ভাবে ঠিক ২ দিন পরে রাহুলদের কর্মসূচিতে দেখা যায়নি সিজেপিকে।
জাতীয় রাজনীতির বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সিজেপি নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিজিৎরা আদতে বিজেপিরই ‘বি টিম’ বিভিন্ন মহলে যে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, তা হয়তো ঠিক নয়। আবার এই দাবি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ারও নয় বলেই মনে করেন দলের একাংশ নেতা। ফলে যত ক্ষণ না রাহুল নিশ্চিত হচ্ছেন সিজেপি-র ব্যাপারে, তত দিন নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাটা ভুল কিছু নয়। বরং একে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা উচিত। সেই জায়গায় সৌরভ-আশুতোষের গ্রেপ্তারির পরে রাহুলের বার্তা সেই দূরত্ব বজায় রাখার অবস্থান থেকে খানিকটা সরে আসারই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকে।
