সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান এবং কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যশোরের ঝিকরগাছায় ৫৯টি পূজামণ্ডপে শুরু হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। মহালয়ার আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষণগণনা শেষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ নেতা মর্তোজা এলাহি টিপু শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, সহস্রাব্দের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ঝিকরগাছায় এবারও দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমরান হাসান সামাদ নিপুন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ঝিকরগাছায় সব ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবারের দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে আরও সুদৃঢ় হবে। উৎসব আয়োজনে তাঁর দলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এ জন্য নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল আলীম ও সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হোক, তাঁরা সেই প্রত্যাশা করেন। এ আয়োজনে তাঁদের দলের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু দুলাল অধিকারী, সাধারণ সম্পাদক বাবু তড়িৎদাস, মৃণাল কান্তি দত্ত এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি বাবু শ্যামল রায় পূজা উপলক্ষে সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা উপজেলা প্রশাসন, থানা-পুলিশ, রাজনৈতিক দল ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, দুর্গোৎসব ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন নাভারন সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফ হোসেন। তিনি গুজব, উসকানি, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পূজার আয়োজন ও পূজা-অর্চনার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
তিনি পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপ এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।
শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
