বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া বাজারের পাশে নানার বাড়ির এলাকায় দক্ষিণ চরপাড়া মন্ডলবাড়ীতে নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আহসান হাবিব।
দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণ, মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এলাকায় দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) চার তলা ফাউন্ডেশনে নির্মাণাধীন মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ শতক জমি ক্রয় করে মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। জমিটির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। মসজিদটির নির্মাণকাজে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্ধু বান্ধবের কাছে থেকে ৭৫ হাজার টাকা অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে । মসজিদটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান রয়েছে।
আহসান হাবিব দীর্ঘদিন ধরে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে তিনি নিজ অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণের কাজ করে আসছেন।
এ ছাড়াও ১৯৯৭ সালে নিজ গ্রামে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নিয়ামতের বাইগুনিতে দাদার জমির ওপর একটি মক্তব-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্বও পালন করে আসছেন। তাঁর এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক কাজেও রয়েছে তাঁর অবদান। প্রতি ঈদে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মধ্যে লক্ষাধিক টাকা বিতরণ করেন তিনি। ঈদকে কেন্দ্র করে এসব সহায়তা পেয়ে উপকৃত হন এলাকার অনেক দরিদ্র পরিবার।
স্থানীয় মানুষের কাছে আহসান হাবিব একজন দানশীল ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মসজিদ নির্মাণ, মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো উদ্যোগের কারণে এলাকাবাসী তাঁকে ‘দানবীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন মসজিদটির কাজ সম্পন্ন হলে এটি স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
এখানে বাইরের কোন অনুদান গ্রহণ করা হয় না, এমন সাইনবোর্ড দেখা গেছে, কারণ নির্মাণ কাজ শুরুর প্রথম দিকে কিছু অসাধু ব্যক্তি মসজিদের নির্মাণ কাজের কথা বলে মানুষের কাছ থেকে কিছু টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করিয়াছেন। তাই এমন সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ড. আহসান হাবীব।
The post নিজ অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাবি শিক্ষক ড. আহসান হাবিব appeared first on Dhaka Protidin.
