ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় অধিকার কারও করুণা বা অনুগ্রহের বিষয় নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটির আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সব ধর্মের মানুষের অধিকার শুধু স্বীকার করলেই হবে না, তা বাস্তবেও নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা কাম্য নয়। ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ হতে হবে স্বাধীন, নিরাপদ ও সবার জন্য উন্মুক্ত।
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে পূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। উৎসবের সময় মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা এবং ঢাকায় ফেরার ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
নিজ নির্বাচনী এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে শেখ রবিউল আলম বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সব নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা তার দায়িত্ব। কোনো নাগরিকের যৌক্তিক সমস্যা বা অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তার নজরে এলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকায় স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণে সরকারি জমি বরাদ্দের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত সরকারি জমি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট জমিতে সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকলে ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণে জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে পূজামণ্ডপ স্থাপন করতে গিয়ে আয়োজকদের যে ভোগান্তি হয়, তার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। ধর্মীয় চর্চার সুবিধার্থে স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এমএইচএন/ এনটি
