Published on
:
4 min read
বাল্যবিবাহ রোধ
বাগনান: দুর্গাপুজোর থিম ‘বাল্যবিবাহ রোধ’। বাগনানের হিজলক পূর্বপাড়ার দুর্গাপুজো কমিটি এবার ১৬ বছরে পদার্পণ করল। স্থানীয় আটচালায় এই পুজো হবে। প্রতিমা নির্মাণ করছেন অতনু চন্দ্র। থিমের ভাবনা গৌরব চক্রবর্তীর। আজ, মহাষষ্ঠীর দিন এই পুজোর উদ্বোধন হবে। দুর্গাপুজো কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, থিমের কথা মাথায় রেখেই পুজো উদ্বোধনের আগে গ্রামের প্রায় ৭০০ জননীকে আলতা, সিঁদুর দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হবে। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের সহায়তায় করা হবে বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা শিবির। পাশাপাশি, বাল্যবিবাহ হলে কী কী ক্ষতি হয় এবং মেয়েরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সঠিক বয়সে বিয়ে হলে কী সুবিধা হয়, তা নাটকের মাধ্যমে পরিবেশিত করবেন হিজলোক গ্রামের মহিলারা। উদ্যোক্তাদের পক্ষে সুরজিৎ দাস বলেন, শুধু পুজোর থিম নয়, এই পুজো থেকে আমাদের প্রতিজ্ঞা, এলাকায় বাল্যবিবাহ হতে দেবো না।
Ei Samay
থিম ‘বহন’
বাগনান: জীবনে প্রতি পদে আমরা বহন হচ্ছি। এক মা গর্ভে ধারণ করছেন সন্তান। অর্থাৎ, তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করছেন। আবার যেমন নৌকো বা রিকশা বহন করছে যাত্রী, তেমনই এই কাজের মাধ্যমে ওই মানুষটি বহন করছেন তাঁর সংসার। দায়িত্ব পালন বা নির্বাহ করাও এককথায় বহন। আবার জগতের সব কিছুকেই বহন করেছে চলেছে সময়। এবার এই ‘বহন’কে ভাবনা করেই ৩০তম বর্ষে মণ্ডপ রূপায়িত করেছে বাগনান বরুন্দা বিবেকানন্দ পল্লি কল্যাণ সমিতি। পুজোর থিমশিল্পী কৃষাণু রায় বলেন, ‘পুরো মণ্ডপে থিম তুলে ধরতে একাধিক সামগ্রীর ব্যবহার করা হয়েছে। মণ্ডপে যেমন রয়েছে নৌকো, তেমনই রয়েছে হাতেটানা রিকশা, রয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। সবটাই করা হয়েছে মডেল ও ছবির মাধ্যমে।
Ei Samay
গেরুয়া মাটি
চুঁচুড়া: গেরুয়া মানে শুধু রং নয়, এটি ত্যাগ, সাধনা আর মানবতার প্রতীক। সেই ভাবনা থেকেই ৪৯তম বর্ষে চুঁচুড়া মার্কণ্ডগলি সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ভাবনা, গেরুয়া মাটির পথে। উদ্যোক্তাদের কথায়, ‘মাটি আমাদের শিকড়, আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, আমাদের অস্তিত্ব। বাংলার বাউলরা বিশ্বাস করেন, মন্দির বা মসজিদের আগে মানুষের অন্তরেই ঈশ্বরের বাস। সেই বিশ্বাস থেকেই ‘মনের মানুষ’-এর সন্ধান।’ উদ্যোক্তা সৌরভ দাস বলেন, ‘বাউলের আখড়া, বাঁশ, খড়, পোড়ামাটি, একতারা, দোতারা, খমক, গেরুয়া রঙের আবহ থাকবে মণ্ডপে। মা দুর্গা এখানে মানবতা আর অন্তরের আলোর প্রতীক। আবহ সঙ্গীতে একতারা, দোতারা, খমক, বাঁশি, লালন, পাগলা কানাই, দুদ্দু শাহের ভাব গানের সুরে মাতবে।
Ei Samay
বনেদি বাড়ি
চণ্ডীতলা: গ্রামের জমিদার বাড়ির সঙ্গে দুর্গাপুজোর যোগ বাংলার ইতিহাসে স্বাভাবিক ঘটনা। দেশ ভাগ ও নানা বিপর্যয়ের পরেও অনেক জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে যুগের পর যুগ ধরে। ইতিহাসের সেই স্মৃতিকে উস্কে দিতেই চণ্ডীতলার নবজাগরণ সঙ্ঘ ২৭তম বর্ষে বনেদি জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোকে থিম হিসেবে তুলে ধরেছে। পৃষ্ঠপোষক সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে একটা আবেগ। সেই কারণেই জমিদার বাড়ির পুজোর পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’ পুজো কমিটির সম্পাদক ভোলানাথ সাহা ও সহ সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘একচালার সাবেকি প্রতিমার অন্যতম আকর্ষণ মায়ের টানা চোখ ও হলুদ বর্ণের মুখ।পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে গোটা মণ্ডপ।
Ei Samay
সত্যজিৎ স্মরণ
কোন্নগর: ১৯৬৫ সালে ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় সত্যজিৎ রায়ের কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদা প্রথম আত্মপ্রকাশ করে ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’ সিরিজের মধ্য দিয়ে। স্রষ্টাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতেই সত্যজিতের কালজয়ী সৃষ্টি ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’ চলচ্চিত্রকে ২৬ বছরের থিম হিসেবে তুলে ধরেছে কোন্নগরের বৈশাখী ক্লাব। চলচ্চিত্রম সিনেমা হল লাগোয়া রাস্তার পাশে লোহার কাঠামোর উপরে তৈরি হয়েছে সোনার কেল্লা। পাশে রয়েছে কয়লায় টানা রেল ইঞ্জিন। ফেলুদা, তোপসে ও জটায়ুর মডেলের পাশাপাশি, বিখ্যাত সিনেমার সংলাপ ‘উট কি কাঁটা বেছে খায়?’ ‘ত্রিনয়ন ও ত্রিনয়ন।’ ‘তং মৎ করো।’ ক্লাবের ছেলেরাই মণ্ডপ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন সভাপতি অমিতকুমার মিত্র। সম্পাদক নীলোৎপল ঘোষ বলেন, মূল ভাবনা আমার। ক্লাবের ছেলে শঙ্কর বাগ, সনৎ ঘোষ, সজল, সানি ও নির্মলরা দিনরাত এক করে মণ্ডপ তৈরি করেছে। একচালার প্রতিমায় পুজো হবে।’
Ei Samay
ভারতমাতার পুজো
হাওড়া: সালটা ছিল ১৯২৪। ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতার গ্লানি থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে হাওড়ার নটবর পাল রোডে দেবী দুর্গাকে ভারতমাতা রূপে পুজো করা শুরু হয়েছিল। সেই পুজো এ বার ১০৩-তম বর্ষে পা দিল। ভারতমাতা সঙ্ঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতার ইতিহাস। তার সঙ্গে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া। গত মঙ্গলবার তৃতীয়ার সন্ধ্যায় ভারতমাতা সঙ্ঘের পুজোর উদ্বোধন করে রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার। ছিলেন সমাজসেবী রমাপ্রসাদ ভট্টাচার্য, পুজো কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও প্রধান উদ্যোক্তা সৌম্য ঘোষ। অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।
থিম রাজবাড়ি
বৈদ্যবাটি: জোড়া অশ্বত্থতলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সম্মিলনীর পুজো এ বার ৫৮ বছরে পড়ল। পুজোর থিম 'রাজবাড়ি'। যার মাধ্যমে উঠে এসেছে, 'পুরোনো দালান, পুরোনো স্মৃতি-নতুন করে মায়ের প্রীতি'। বুধবার চতুর্থীর দিন পুজোর উদ্বোধন করেন আদ্যাপীঠ রামকৃষ্ণ সংঘের ব্রহ্মচারী স্ত্রী উৎসব ভাই (মহারাজ)। দুর্গোৎসব সম্মিলনীর ও জোড়া অশ্বত্থতলা সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে মানুষের সেবায় বিনামূল্যে কম্বলও বিতরণ করা হয় বুধবার।
