উপকূলীয় জনপদ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় স্থাপন করা হয়েছে দুটি রিভার্স অসমোসিস (আরও) পানি শোধনাগার। উপজেলার খাগড়াঘাট ও কৈখালি গ্রামে সৌরবিদ্যুৎচালিত প্ল্যান্ট দুটি চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা এখন বাড়ির কাছেই সংগ্রহ করতে পারছেন সুপেয় পানি। এতে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহের ভোগান্তি কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগরের উপকূলীয় গ্রাম দুটিতে লবণাক্ততার কারণে পুকুর ও নলকূপের পানি অনেক ক্ষেত্রে পানযোগ্য নয়। ফলে নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী ও শিশুদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের অর্থায়নে স্থাপন করা হয় আধুনিক পানি শোধনাগার দুটি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্ল্যান্ট দুটির মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরীক্ষাগারের তথ্য অনুযায়ী, শোধনের আগে কৈখালির পানিতে প্রতি লিটারে মোট দ্রবীভূত কঠিন পদার্থের (টিডিএস) পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ২১৭ মিলিগ্রাম। শোধনের পর তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ মিলিগ্রামে।
অন্যদিকে, খাগড়াঘাটের পানিতে শোধনের আগে টিডিএসের পরিমাণ ছিল প্রতি লিটারে ৪ হাজার ৮১ মিলিগ্রাম, যা শোধনের পর কমে হয়েছে ৯২ মিলিগ্রাম।
প্ল্যান্ট দুটিতে প্রতি লিটার পানি ব্যবস্থাপনার খরচ রাখা হয়েছে ৫০ পয়সা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে প্ল্যান্ট দুটি উদ্বোধন করেন আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সিআর প্রধান ফেরদৌস ফয়সাল এবং বারসিকের উপকূলীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে শোধনাগারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পানির গুণগত মান পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
