বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত, এখন একই পরিমাণ পণ্য কিনতে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আয় না বাড়লেও প্রতিদিনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতাল মোড়ের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবসময়ই ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে নিজেদের মতো করে দাম বাড়াচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর চাপ বাড়ছে, অথচ বাজারে কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না।”
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, ডাল ও পেঁয়াজের বাজারে এ ধরনের কারসাজির অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির জন্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম এবং সবজির সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্য, উত্তরাঞ্চল থেকে সবজির সরবরাহ কম থাকায় আড়তে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের কারণে পণ্যের দাম বাড়লেও ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে দামের ওপর কার্যকর নজরদারি থাকা জরুরি।
নিত্যপণ্যের পাশাপাশি ফলের বাজারেও ঊর্ধ্বমূল্যের প্রভাব পড়েছে। আপেল, মালটা, আঙুর, আনারসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের ভাষ্য, ৩০০ টাকার নিচে মানসম্মত ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবার বাধ্য হয়ে খাদ্যতালিকা থেকে পুষ্টিকর ফল বাদ দিচ্ছে। এতে শিশু ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পণ্যের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা, সম্ভাব্য চাঁদাবাজি এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতিও মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের মতে, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্যের ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ পরিস্থিতিতে নাসিরনগরের সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার তদারকি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ তদন্ত এবং সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার কিছুটা স্বস্তি ফিরে পাবে বলে আশা করছেন তারা।
The post বাজার তদারকির ঘাটতিতে কারসাজির অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান ক্রেতারা appeared first on ভোরের চেতনা.
