রাজধানীর ডেমরার মাতুয়াইল মাদ্রাসা বাজার এলাকার একটি গ্যারেজে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যবহৃত ‘নোঙর’ বাস। এতে বাসটির প্রায় অর্ধেক পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেতরের আসনগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরার মাতুয়াইল মাদরাসা বাজার এলাকার একটি গ্যারেজে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সকালে গ্যারেজে থাকা অন্য একটি বাসে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে রাখা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটিতে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মাহিদ হাসান। গ্যারেজের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, সকালে সেখানে বনশ্রী পরিবহনের একটি বাসে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। এ সময় বাসটিতে আগুন লাগে এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে জবির ‘নোঙর’ বাসের ছাদে।
তিনি জানান, গ্যারেজের কর্মীরা আশপাশের লোকজনের সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। একইসঙ্গে, বাসটি গ্যারেজ থেকে বাইরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেন। তবে বাসটির গেট বন্ধ থাকায় সেটি সরানো সম্ভব হয়নি।
বাসটির প্রায় অর্ধেক পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেতরের আসনগুলোও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘নোঙর’ বাসটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নরসিংদী রুটে চলাচল করে। দুর্গাপূজার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্য শনিবার বাসটি ওই গ্যারেজে পাঠানো হয়। মেরামতের জন্য সেখানে রাখা অবস্থাতেই বাসটিতে আগুন লাগে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গতকাল (১৭ অক্টোবর) আমরা বাসটি মেরামত করতে দিয়েছি। আজ সকালে আগুনের ঘটনা ঘটলো। মেরামতের কাজে থাকায় বাসটিতে কোনো শিক্ষার্থী ছিলেন না। কেউ হতাহত হয়নি।”
তিনি আরো বলেন, “পূজার ছুটিতে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় মেরামতের জন্য বাসটি গ্যারেজে পাঠানো হয়েছে। সকালে গ্যারেজের অন্য একটি বাসে আগুন লাগার পর তা জবির বাসে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যারেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ইতোমধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।”
বাসটির ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে পরিবহন প্রশাসক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি মেরামত করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। এ ঘটনায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ব্যয় গ্যারেজ কর্তৃপক্ষ বহন করবে বলে জানিয়েছে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির কারণে বাসটির নিয়মিত চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
