স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে একদিনে হামে ৩ শিশুর মৃত্যুর পরদিন আরো ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাম উপসর্গে ২ শিশু মারা যায়। এনিয়ে বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২০২ জনে। টানা দুইদিনে হামে ৫ শিশুর মৃত্যু জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
এই সময়ে নতুন কেউ হাম শনাক্ত না হলেও উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন আরও ১২৫ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৬৮ জন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ৩ মাস বয়সী সিফাত সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ও ১০ মাস বয়সী দ্রিনি সুনামগঞ্জের বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা বাসিন্দা।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১৫ জনে রয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে ৪৪২, হবিগঞ্জে ১৫৮, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ১২৫ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৬০, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮, জালালাবাদ রাগিব রাবেয়া মেডিকেলে ৬ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৬৮ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৮, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০০, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২, নর্থ ইস্টে ৫, পার্কভিউ মেডিকেলে ২০, বিশ^নাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সিলেটে হাম ও উপসর্গে ২০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৭৯, হবিগঞ্জে ২৮, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চার, হবিগঞ্জে চার, মৌলভীবাজারে একজন ও সুনামগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে সিলেটে ৮৩, হবিগঞ্জে ৩২, মৌলভীবাজারে ১৬ এবং সুনামগঞ্জে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের ২৪ ঘন্টায় সিলেটে হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন ভর্তি হয়েছিলেন ৯৪ জন।
