কালবেলা · খেলাধুলা
অর্শদীপের রেকর্ড আর তিলকের ঝড়ে দুইয়ে দুই ভারতের
২৪/১০/২০২৬

প্রথম ম্যাচে রেকর্ড রান তাড়া করে জয়। দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই পথে হাঁটল ভারত। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রেয়স আইয়ার। এবারও শেষ হাসি হাসল টিম ইন্ডিয়া। কিউয়ি বধ করে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল ‘মেন ইন ব্লু’। তবে এই ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হল ভারতকে। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য পেরতে গিয়ে একটা সময় দ্রুত উইকেট খুইয়ে চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল গৌতম গম্ভীরের দলকে। তবে ফিনিশারের ভূমিকায় নামা তিলক বর্মা, নমন ধীর ও নীতীশ কুমার রেড্ডির ‘ত্রিফলা’য় দুরন্ত জয় পায় টিম ইন্ডিয়া।
টসের পরেই দলে জোড়া পরিবর্তনের কথা জানান শ্রেয়াস। চোটের কারণে ঈশান কিষান খেলতে পারছেন না। তার জায়গায় দলে এলেন বৈভব সূর্যবংশী। অন্যদিকে, ময়ঙ্ক যাদবের পরিবর্তে সুযোগ পেলেন প্রিন্স যাদব। শ্রেয়াসের কথায়, দ্বিতীয় পরিবর্তনটি ছিল রুটিন রোটেশনের অংশ। বল হাতে শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল ভারত। নিজের প্রথম ওভারেই টিম সেইফার্টকে ফিরিয়ে দেন অর্শদীপ সিং। দু’ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান দাঁড়ায় ১১/১। এর পর ভুবনেশ্বর কুমারের বলে তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডারিল মিচেল। চার ওভার শেষে কিউয়িদের স্কোর তখন ২ উইকেটে ২৩। নিজের প্রথম ওভারেই ফিন অ্যালেনকে (১৪ বলে ১৬) বোল্ড করেন প্রিন্স যাদব। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ৩ উইকেটে ৪৩।
প্রথম ম্যাচের মতো শুরু থেকে আগ্রাসী মেজাজে ছিল না নিউজিল্যান্ড। ১০ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৬৬-র বেশি ওঠেনি। পড়ে গিয়েছিল ৩ উইকেট। কিন্তু এর পরেই পালটা আক্রমণে ম্যাচের ছবিটা বদলে দেন গ্লেন ফিলিপ্স। তাঁার সঙ্গে ক্রিজে জমে যান জেকবসও। ৩৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিলিপ্স। ১৬ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান পৌঁছে যায় ৩ উইকেটে ১৩৩-এ। ফিলিপ্স তখন ৪৩ বলে ৭০ রানে ব্যাট করছেন। জেকবসের রান ৩৯। শেষ দিকে ফিলিপ্সের ঝোড়ো ইনিংস থামান অর্শদীপ। ৪৩ বলে ৭০ রান করে ফেরেন কিউয়ি ব্যাটার। তবে ততক্ষণে ফিলিপ্স ও জেকবস মিলে মাত্র ৭৭ বলে যোগ করেন ১১৬ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে তারা। অর্শদীপ নেন ৩৩ রানে দু’টি উইকেট। ভুবনেশ্বর কুমার ১ উইকেট শিকার করলেও বিলিয়ে দিলেন ৫০ রান। নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ‘কৃপণ’ প্রিন্স যাদব ভাগ করে নেন একটি করে উইকেট।
ব্যক্তিগত কৃতিত্বে এদিন নজির গড়লেন অর্শদীপ। এক ক্যালেন্ডার বছরে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। ২০২২ সালে ৩২টি ম্যাচ খেলে ৩৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এত দিন সেটাই ছিল ভারতীয় বোলারদের সেরা নজির। শনিবার সেইফার্ট ও ফিলিপ্সকে ফিরিয়ে চলতি বছরে অর্শদীপের উইকেটসংখ্যা দাঁড়াল ৩৮। ভুবনেশ্বরের চেয়ে তিন ম্যাচ কম খেলে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০২৪ সালে ১৮টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩৬টি উইকেটও নিয়েছিলেন অর্শদীপ।
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে অভিষেক শর্মার সঙ্গে নামেন সঞ্জু স্যামসন। বৈভব সূর্যবংশীকে যে শুরুতে পাঠানো হবে না, তা আভাস দিয়ে রেখেছিলেন শ্রেয়স। চার ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৩৭/০। মনে হচ্ছিল, সহজেই বৈতরণী পার হবে এদিনও। কিন্তু সঞ্জু ১৪ রান করে ফিরে যেতেই ছন্দপতন। বৈভবও ব্যাট হাতে কিছু করতে পারলেন না। ১০৮ দিন পর গম্ভীরের অধীনে জায়গা পেয়ে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে তিনি। ৮ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৫৪ রানের বেশি তুলতে পারেনি ভারত। এর পর অভিষেক শর্মাও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। ২১ বলে ২৭ রান করে মিচেল স্যান্টনারের বলে আউট হলেন তিনি।
ভারতের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন স্যান্টনার। একই ওভারে শ্রেয়স আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেলকে ফিরিয়ে দেন কিউয়ি অধিনায়ক। মাত্র ১১ ওভারের মধ্যেই ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। স্কোরবোর্ডে তখন মাত্র ৭১ রান। চাপের মুখে পালটা মারের শুরুটা করেছিলেন নমন ধীর। ১৭ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে তিনি মারেন একটি চার ও তিনটি ছয়। তবে নমন আউট হতেই বাড়ে ওভার প্রতি রান তোলার চাপ। আট নম্বরে নেমে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে লড়াইয়ে ফেরান নীতীশ রেড্ডি। তিলক বর্মার সঙ্গে তাঁর জুটিই জয়ের আশা জাগায়। শেষ দিকে অবশ্য আক্রমণের ঝড় তোলেন তিলক। তাঁর ২৬ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ছিল ছ’টি চার ও একটি ছয়। নীতীশও ১৩ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও একটি ছয়। এক বল বাকি থাকতে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নেয় ভারত।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সফল মিচেল স্যান্টনার। ২১ রানে চার উইকেট নেন তিনি। নাথান স্মিথ ও জ্যাকব ডাফি একটি করে উইকেট পেলেও যথাক্রমে ৩৪ ও ৪১ রান খরচ করেন। টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও ভারতের উদ্বেগ কাটল না। প্রথম ম্যাচে বোলারদের ব্যর্থতা ঢেকে দিয়েছিলেন ব্যাটারেরা। শনিবার বোলিংয়ের উন্নতি দেখা গেলেও ব্যাটিংয়ের টপ অর্ডার ব্যর্থ। তাই জয় এল ঠিকই, কিন্তু দলের সার্বিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। ভারতের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗