কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ৩৯ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোর ৪টা) কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে আগুনের সূত্রপাত হয়। এটি দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কীভাবে এর সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ওয়েড রুটল্যান্ড এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই সময় পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা গ্রেনেড রেঞ্জ ও অ্যাটাক রেঞ্জে সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণ এলাকায় গ্রেনেড লঞ্চার, গ্রেনেড ও ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদসহ বিভিন্ন ধরনের সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ সময় প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে একটি ঘাসের জমিতে আগুন লাগে। অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দিক পরিবর্তন করে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকার দিকে চলে আসে।
নিহত চার সেনা হলেন- সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং এবং প্রাইভেট হেইডেন লাইকেমার্ক।
কর্মকর্তারা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না।
রবিবার অটোয়া থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার ভূখণ্ডে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডিগুলোর একটি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যেসব সাহসী সদস্যকে আমরা হারিয়েছি, তাদের জন্য পুরো জাতি শোকাহত।”
সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আলবার্টার রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওয়েনরাইট হলো কানাডার সামরিক বাহিনীর লাইভ-ফায়ার প্রশিক্ষণ অনুশীলনের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। এখানে কানাডা ও মিত্র দেশগুলোর সৈন্যরা অবস্থান করে। সাধারণ দিনে এখানে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক কর্মী এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী উপস্থিত থাকেন।
এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থিরস্ক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজকে জানান, এই ঘটনায় আহত রোগীদের সংখ্যা ওয়েনরাইটের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে ‘সম্পূর্ণরূপে হিমশিম খাইয়ে দিয়েছে’।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালসহ প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েনরাইটে সরাসরি ২২টি গ্রাউন্ড অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট ৩০টি জরুরি ইউনিট এবং আঞ্চলিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস মোতায়েন করেছে।
ওয়েনরাইট হেলথ সেন্টারের এক রোগী ব্রেন্ডন সিমন্স রয়টার্সকে জানান, যখন জরুরি অবস্থার ঘোষণা আসে, তখন নার্সরা হাতের সব কাজ ফেলে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে প্রধান গেটের দিকে দৌড়ান।
তিনি জানান, সারারাত ধরে অ্যাম্বুলেন্স আসা অব্যাহত ছিল।
তিনি বলেন, “অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভেতর থেকে মানুষের আর্তনাদ ও কান্নার আওয়াজ আসছিল, যা আমার মন থেকে কোনোদিন মুছবে না। পুরো পরিবেশটি ছিল ‘যেন কোনো যুদ্ধ সিনেমার দৃশ্য’।”
কানাডার সামরিক ও জরুরি সেবার কর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সারারাত ধরে আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে গেছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দলগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
