সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিতে জমা হওয়া টাকা আবারো গণনা করা হচ্ছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় আগের গণনার ১ মাস ৮ দিন পর পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় দানের টাকা প্রতিদিন গণনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে অনুযায়ী টাকা গণনা, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যয়ের জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক এবং একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনার ব্যবস্থা চালু করা যায়নি।
শনিবারের গণনায় মাজারের দানবাক্স ও ডেকচিতে দেশি টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে। ভক্তদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া গেছে। গণনা শেষে মোট টাকার পরিমাণ জানা যায়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যার জন্য সিভিও জমা হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। তারপর মাজারের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। আজকে ১ মাস ৮ দিন পর আমরা পঞ্চমবারের মতো এই মাজারের দানের টাকার গণনা করছি।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের তিনটি ডেকচি ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও কমিটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন সভা শেষে জানিয়েছিলেন, উন্নয়নকাজের জন্য নির্ধারিত অর্থের ব্যাংক হিসাব জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। আর্থিক কার্যক্রম তদারকিতে একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগের পাশাপাশি হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। ব্যবস্থাপক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে। জেলা প্রশাসক এ কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন। কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মাজারের দানের টাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত ২৩ জুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এর আগে ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেকচিও সিলগালা করা হয়েছিল। এ নিয়ে সিলেটে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে জনসমক্ষে টাকা গণনা করা হয়েছিল।
