নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন অদম্য নরসিংদীর সেই শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার পাশে দাড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেনে গিয়ে বিদ্যালয়েে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে সময় কাটান নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।
এসময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই হাতবিহীন অদম্য শিক্ষক দুখু মিয়ার পাঠদান নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়টি নিবন্ধনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়।
২০০৭ সালে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান আমার বিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন সেটা জেনে আমি খুবই আনন্দিত। আমার স্বপ্ন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত করা। আশা করছি সরকার ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিভা দুখু মিয়া বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ হবে।
নিজের দুই হাত না থাকলেও থেমে নেই দুখু মিয়ার জীবনযুদ্ধ। পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে এই বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ১৪৫ শিশু পড়াশোনা করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শৈশবেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। বাবা পাতিলের কালি ও পানি মিশিয়ে কঞ্চি ও কলাপাতায় লেখার মাধ্যমে তাকে শেখান পা দিয়ে লিখতে। এরপর সেই পা দিয়েই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পাস করেন তিনি। শিক্ষাজীবন শেষ করে শুরু হয় কর্মসংস্থানের লড়াই। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেন চাকরির আশায় ঘুরেছেন তিনি। হতাশা তাকে থামাতে পারেনি তাকে। পরে বাবার দেওয়া জমি বিক্রির টাকা যোগ করে ২০০৭ সালে নগর পাঁচদোনায় নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন।
