আজকাল ওয়েবডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। মেলার প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে কাকদ্বীপের রবীন্দ্রভবনে পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছতেই সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার। এরপর রবীন্দ্রভবনে শুরু হয় প্রশাসনিক বৈঠক। মূলত আসন্ন গঙ্গাসাগর মেলাকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এই বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দফতরের প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। এছাড়াও বৈঠকে যোগ দেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার, মন্দিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক জয়দেব হালদার, পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সমীর জানা, সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল এবং ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক দেবাংশু পাণ্ডা। প্রশাসনিক বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
গঙ্গাসাগর মেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা গোটা রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সমাগম। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী সাগরদ্বীপে পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে আসেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে যাতায়াত, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই মেলা শুরুর আগেই প্রস্তুতির প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কাকদ্বীপ, নামখানা, কচুবেড়িয়া এবং সাগরদ্বীপের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলপথে পুণ্যার্থীদের পারাপার, ভেসেল পরিষেবা, জেটঘাটের ব্যবস্থাপনা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং ভিড় সামলানোর মতো বিষয়গুলিতে বিশেষ নজর দিতে হয়। পাশাপাশি কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক পরিস্থিতি এবং নদীপথের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিও তাৎপর্যপূর্ণ। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জনজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও প্রশাসনকে নজর রাখতে হয়। মেলার সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন পরিষেবার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কাকদ্বীপের রবীন্দ্রভবনে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে তাই স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে মেলার প্রস্তুতি, পরিষেবা এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় উঠে আসার কথা। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা গেলে মেলার প্রস্তুতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে।
