প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করার সময়ে মেজাজ হারালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। রবিবার পটনায় এক সভায় বক্তৃতা করছিলেন খড়্গে। সে সময়েই দর্শকাসন থেকে শোনা যায়, “মোদী যাচ্ছেন না (ক্ষমতাচ্যুত হচ্ছেন না)।” তা শুনেই খড়্গে বলে ওঠেন, “মোদীর বাপও যাবেন।” প্রবীণ কংগ্রেস নেতার এমন মন্তব্যের পর পাল্টা দিয়েছেন কেন্দ্রের শাসকদলের দ্বিতীয় প্রধান মুখ অমিত শাহ। “দিন দিন শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস,” বলেন তিনি।
রবিবার পটনায় বক্তৃতার সময়ে মোদীর প্রয়াত পিতার প্রসঙ্গে পর পর তিন বার ওই একই বাক্য ব্যবহার করেন খড়্গে। ওই বক্তৃতায় কালো টাকা দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ঔদাসীন্যেরও অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস সভাপতি। খড়্গে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর মিথ্যা বলার অভ্যেস আছে। তিনি বলেছিলেন, ১০০ দিনের মধ্যেই কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনবেন। আমি জানতে চাই, সেই টাকা কোথায়?” বক্তৃতায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকেও একহাত নেন তিনি।
তবে তাঁর যে মন্তব্যের জেরে রবিবার বিতর্ক দানা বেঁধেছে— এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেটির সূত্রপাতই এক ‘বিভ্রান্তি’ ঘিরে। খড়্গের বক্তৃতার সময়ে দর্শকাসন থেকে যে ব্যক্তির মুখে ‘মোদী যাচ্ছেন না’ বলে শোনা গিয়েছিল, তাঁর পুরো বক্তব্য না কি শোনাই যায়নি। দাবি করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির নাম সন্তোষ কুমার। মন্তব্য-বিতর্কের পর পরই দর্শকাসনে থাকা কংগ্রেস সমর্থকেরা তাঁকে মারধর করে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বার করে দেন।
পরে বাইরে বেরিয়ে সন্তোষ দাবি করেন, তিনি কোনও বিঘ্ন ঘটাতে চাননি। তাঁকে ভুল বোঝা হয়েছে। তিনি আসলে মোদীকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথাই বলতে চেয়েছেন। ওই ব্যক্তির কথায়, “আমি বলছিলাম যে ‘বিদ্রোহ না হলে মোদী যাবেন না’। কিন্তু তা থেকে শুধু একটি অংশই শোনা গিয়েছে এবং ভুল বোঝা হয়েছে।”
খড়্গের ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর পরই কংগ্রেসের ‘রুচিবোধ’ নিয়ে পাল্টা দিতে শুরু করেছে বিজেপি। তোপ দাগতে শুরু করেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আজ পটনায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মোদীজির পিতার বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে শালীনতার সব সীমা ছা়ড়িয়ে গিয়েছেন।” অতীতেও যে মোদীকে বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে শাহের তোপ, “রাহুল গাঁধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস দিন দিন শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, একের পর এক ভোটে ধরাশায়ী হয়ে কংগ্রেস ‘হতাশা এবং নৈরাশ্যে’ ডুবে গিয়েছে। এখন কংগ্রেসের হাতে কুকথার রাজনীতি ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই বলে দাবি তাঁর। “কংগ্রেস এখন নিজেদের দলের কর্মীদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে”, বলেন শাহ।
