চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প পরিচালনার চ্যালেঞ্জ নিরসন ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারে ‘মিট দ্য ইনভেস্টরস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বেপজাধীন পাঁচটি জোনের শতাধিক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেন।
এতে বিদ্যমান শিল্প পরিচালনার সমস্যা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শ্রমিক কল্যাণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, কুমিল্লা ইপিজেড, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিল্প পরিচালনায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা এবং সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেয় বেপজা।
অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অংশীদারত্ব দৃঢ় করার এবং তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সরাসরি জানার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এর মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যবসাবান্ধব করার সুযোগ তৈরি হবে।
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত নানা বাধা অতিক্রম করেও বিনিয়োগকারীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বেপজা। একই অর্থবছরে বেপজাধীন জোনগুলো থেকে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি।
তিনি বলেন, চলতি বছরে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও ২ এবং যশোর ও পটুয়াখালী ইপিজেডকে পূর্ণাঙ্গ জোন হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিনিয়োগকারীদের এসব নতুন জোনে ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেপজা তাদের মূল্যবান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।
অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অর্জন ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজীকরণে বেপজার কার্যক্রম তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরে বিনিয়োগকারীদের সেখানে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
চালু জোনগুলোতে জমির সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উল্লেখ করে তানভীর হোসেন বলেন, সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বেপজা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। প্রতি একর জমিতে বেপজা ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে প্রতি একর জমি থেকে বছরে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার রিটার্ন অর্জিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস ও শিল্প সম্পর্ক) মো. নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া শ্রমিক কল্যাণ, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক, শ্রম আইন সংস্কার এবং শিল্প পরিচালনার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংস্থাটির উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ৪৫টি অনলাইন সেবা, ২৪ ঘণ্টা চালু হেল্পলাইন ১৬১২৮ এবং এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম বাস্তবায়নের অগ্রগতিও উপস্থাপন করা হয়।
পরে বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এতে বেপজার সেবা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা, শ্রম আইন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়ে মতবিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা। আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রেখে বিনিয়োগকারী ও শ্রমিক উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বেপজা।
উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বেপজা। বর্তমানে সংস্থাটির আটটি ইপিজেড ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৮টি দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব জোনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ক্রমপুঞ্জীভূত রপ্তানি প্রায় ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের মোট রপ্তানিতে বেপজাধীন জোনগুলোর অবদান প্রায় ২০ শতাংশ এবং মোট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে (এফডিআই) বেপজার অবদান ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বিআরইউ
