যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে কূটনীতির পথে এগোতে ইরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে নিজেদের রক্ষায়ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে তেহরান।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, “দ্বন্দ্বের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য ইরান যেমন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তেমনি নিজেকে রক্ষা করার জন্যও প্রস্তুত।”
আরাঘচি তাঁর প্রবন্ধে জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সদিচ্ছা দেখায়নি। এ মুহূর্তে নতুন কোনো চুক্তির বিষয়ে খুব বেশি আশাও দেখছেন না তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে
যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ আরোপ করে আবার সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে ইরানের কাছ থেকে সংলাপ আশা করতে পারে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে হুমকি দেবে, অন্যদিকে আলোচনা চাইবে—তা হতে পারে না। ওয়াশিংটন আলোচনা চাইলে আগে গুণ্ডামি ও আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই আমাদের দেশের অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের গুণ্ডামি ও আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। এরপরই আমরা একসঙ্গে বসতে এবং আলোচনা করতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সব দিক দিয়ে অবরোধ আরোপ করে রাখবে এবং একই সঙ্গে হুমকি দিয়ে আলোচনার দাবি করবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়।”
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আগের চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, কারও সহজে চুক্তিতে সম্মত হওয়া উচিত নয়। কিন্তু যখন কোনো চুক্তি হয়ে যাবে, তখন সেটি শেষ হওয়া পর্যন্ত তাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে—এমনকি যদি তা নিজের পক্ষেও না থাকে।”
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে দুই পক্ষই অল্প কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি ভঙ্গ করে। পরে চুক্তিটি পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
