এই সময় ঘর ছাড়া আরও দুই কিশোরীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তাদের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, কেন এত কিশোরী ঘর ছাড়ছেন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া, সামাজিক মাধ্যমগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কিশোর-কিশোরীরা অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছেন। অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখছি, পরিবারের বাবা বা মা এক ধরনের অসুস্থ জীবন যাপন করছেন। তারাও হয়ত অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে গেছেন। এর প্রভাব পড়ছে সন্তানদের ওপর।”
সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার কিশোরীকে হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার হয়েছে। এই কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলার পর কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, "সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে, বাসায় কীভাবে সময় কাটাচ্ছে, কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হলে এবং সন্তানদের প্রতি যথাযথ নজরদারি থাকলে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব৷''
স্বাধীনভাবে বাঁচতে ঘর ছাড়েন বান্দরবানের তিন কিশোরী
সর্বশেষ গত বুধবার বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী থেকে নিখোঁজ তিন কিশোরীকে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। এই তিন কিশোরীর বয়স ১৩, ১৪ ও ১৭ বছর। তারা লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের একই পাড়ার বাসিন্দা এবং পরস্পরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। ১৩ ও ১৪ বছর বয়সি দুই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ১৭ বছর বয়সি কিশোরী চকরিয়ার মানিকপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১১ অক্টোবর বিদ্যালয় থেকে নিবন্ধন কার্ড আনার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তাদের খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার।
উদ্ধারের পর ১৭ বছর বয়সি কিশোরী জানিয়েছে, নিজের আয়ে চলার জন্য ঘর ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি। এরপর গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিলেন তারা৷ এই কিশোরীর মা জানায়, বৃহস্পতিবার পুলিশ তার মেয়েকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। মেয়েরা তাকে জানিয়েছে, নিজেদের খরচ নিজেরা চালানোর জন্য বাসাবাড়িতে কাজ করতে চট্টগ্রামে গিয়েছিল তারা।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় ঘোরাফেরার সময় এক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। তারা বাড়ি ছেড়ে আসার এবং বাসাবাড়িতে কাজ করার ইচ্ছার কথা ওই ব্যক্তিকে জানায়। পরে তিনি তাদের খুলশি এলাকায় তার পরিচিত ব্যক্তিদের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে দুই কিশোরী কাজ পায়। কাজ পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে ওই কিশোরী মাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। তখন পরিবার লামা থানার পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে।
ওই কিশোরীর মা বলেন, "মেয়ের চিন্তায় তিন দিন-চার রাত তার নির্ঘুম কেটেছে। পড়াশোনা নিয়ে মেয়েকে শাসন করেছিলেন তিনি। সেই শাসনের কারণেই মেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। বাড়ি ফিরে মেয়ে ভুল স্বীকার করেছে এবং আর কখনও এমন করবে না বলে জানিয়েছে।”
‘‘আমরা তাকে আর অতিরিক্ত শাসন করব না,'' বলেন ওই কিশোরীর মা।
টিকটকে পরিচয়, ঘর বাধতেই ঘর ছাড়ে কুমিল্লার চার কিশোরী
এর ঠিক একদিন আগে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ চার কিশোরীকে হবিগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন তরুণদের সঙ্গে পরিচয়। এরপর তাদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে এবং স্বাধীনভাবে বাঁচতে ঘর ছাড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া কুমিল্লার তিন কিশোরী। তাদের মধ্যে একজন আবার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট বোনকেও সঙ্গে নেয়। গত সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে তারা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু তারা বিদ্যালয়েও যায়নি, বাড়িতেও ফেরেনি।
চার ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, "তারা নিয়মিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। টিকটকে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তাদের পরিচিতি ও যোগাযোগ তৈরি হয়। একই পরিবারের দুই বোনের মধ্যে বড় মেয়েটির সঙ্গে চার তরুণের, ১২ বছর বয়সি মেয়েটির সঙ্গে দুই তরুণের এবং ১৩ বছরের মেয়েটির সঙ্গে আরও দুই তরুণের পরিচয় ও সখ্য গড়ে ওঠে। তবে ওই ছেলেদের প্রকৃত ঠিকানা তারা জানত না।''
তিনি আরও বলেন, ‘‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে তৈরি হওয়া ধারণা ও কল্পনায় বিভ্রান্ত হয়ে তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের পরিকল্পনা ছিল ঢাকায় গিয়ে নিজেরা উপার্জন করবে, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করবে এবং পরিচিত ছেলেদের সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করবে। এ জন্য তারা বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে বের হয়। একই পরিবারের দু'জনের ক্ষেত্রে বড় বোন বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে ছোট বোন বিষয়টি বুঝতে পারে। তাকে সঙ্গে না নিলে বাবা-মাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল সে। পরে তাকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।”
এই চার শিশু ও কিশোরীকে সোমবার রাত দুইটার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ ৪ কিশোরী সাভারে উদ্ধার
নিখোঁজের ছয় দিন পর চার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা পুলিশ। এদের সবার বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তাদের আদালতের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এই চার কিশোরীকে উদ্ধারের পর তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, "সামাজিক মাধ্যম টিকটকে কুষ্টিয়ার তিন কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয় নারায়ণগঞ্জের এক কিশোরীর। স্বাধীনভাবে তারা বাঁচতে এবং ‘একসঙ্গে' থাকতে কুষ্টিয়ার কিশোরীরা চলে যায় ঢাকায়। আর নারায়ণগঞ্জের ওই কিশোরীও ঢাকায় চলে আসে। সেখান থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে একটি বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় আমার তাদের সেখান থেকে ১৩ অক্টোবর উদ্ধার করেছি।”
জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে তাদের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

পরিবারের চাপ থেকে মুক্ত হতে ঘর ছাড়ে ঢাকার পাঁচ কিশোরী
রাজধানীর পল্লবী থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীকে গত ৫ জুন মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নিখোঁজ অন্য দুই কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকেও দুটি নিখোঁজ জিডি করা হয়। তাদের এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি থানায় এসে জানান, তার মেয়ে আগের দিন বিকেলে তার বান্ধবী ও তার ছোট বোনকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর তারা আর বাড়ি ফেরেনি। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৫ আগস্ট রাত ৩টার দিকে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, রাজধানীর আগারগাঁও এলাকার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে তার এক বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরিবার থেকে বাধা দেওয়া হতো। এ পরিস্থিতিতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থী তার মাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কাপড়চোপড় নিয়ে তার ছোট বোনকে সঙ্গে করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়।
পরে তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওঠে। উদ্ধারের পর তিন কিশোরীকে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লবী থানা পুলিশ।
ঢাকার প্রথম নারী উবার চালকের কথা
নিখোঁজ কত? আর উদ্ধার কত?
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগ পর্যন্ত সবাই শিশু। ফলে শিশু বা কিশোর-কিশোরীর আলাদা কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। পুলিশের হিসেবে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এদের বয়স শূন্য থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। এর ৮৭ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার হয়েছে। সংখ্যায় এটি ১৩ হাজার ৬৭৯ জন। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। এরমধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। এর মধ্যে কিশোর ও কিশোরী আছেন।
নিখোঁজের কারণ হিসেবে পুলিশ বলছে, ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সি শিশুদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হয়েছে। ফলে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৩ সালে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।
শিশুদের নিয়ে কাজ করা একটি সতর্কতামূলক সংস্থা মুন অ্যালার্টের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে ১৭ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী খুন হয়েছে বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই নিখোঁজ হয়েছে ৫৫ জন। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দু'জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মার্চেও দুইজন খুন হয়। মে-জুনে আট শিশুর লাশ উদ্ধার হয়। আগস্টে এক শিশু ও সেপ্টেম্বরে ৪ শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে।
কেন রাজপথে জেনজি?
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
মানবাধিকার কর্মী নাবিলা ইদ্রিস ডয়চে ভেলেকে বলেন, "কিশোরীদের মধ্যে এই ধরনের প্রবণতার মূল কারণ পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যাওয়া। আগে যেখানে আমরা মাঠে খেলতে যেতাম, সেখানেই আমাদের বন্ধু তৈরি হতো। কিন্তু এখন মাঠ নেই, বাচ্চারা ঘরের মধ্যেই থাকে। সেখানে সামাজিক মাধ্যমে তাদের বন্ধু তৈরি হচ্ছে। এই বন্ধুদের মধ্যে আসলে কয়জন তাদের বন্ধু হওয়ার যোগ্য, সেগুলো তো দেখা হচ্ছে না। অসম বন্ধুত্ব হচ্ছে। কয়দিন আগেও দেখলাম, সামাজিক মাধ্যমে মাত্র ১৭ দিনের পরিচয়। এরপর কক্সবাজার চলে গেছে তার সঙ্গে। এরপর তো ওই কিশোরীকে তো মেরেই ফেলল ছেলেটা।''
তিনি বলেন, ‘‘শুধু কিশোরী না, কিশোরদের মধ্যেও এই প্রবণতা আছে। যে কারণে কিশোর গ্যাং হচ্ছে। অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে পারিবারিক, সামাজিক বন্ধন যত দুর্বল হতে ততই এই ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকবে।”
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, "১২ থেকে ১৮ বছরের কিশোর-কিশোরীদের মনোজগৎ একটু ভিন্ন। তারা যেমন অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করে, তেমনি পরিবারের কড়া শাসন তাদের ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়। তাদের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে। সমস্যাগুলো শুনতে হবে।''
কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে বাবা-মায়েরা সন্তানদের সঙ্গে কম সময় কাটান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নিজেরাই যতটুকু সময় বাসায় থাকেন, মোবাইলের মধ্যে থাকেন। ফলে সন্তান কী করছে, তারা খেয়াল করছেন না। এমন সব পরিবারের কিশোর-কিশোরীরাও বিপথে চলে যাচ্ছে। আমাদের কাছে অনেকেই সন্তানদের নিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা এগুলোই দেখি।”
