Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর আনন্দে যাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সমান ভাবে সামিল হতে পারেন, সেটাই লক্ষ্য। তার জন্য শহরের নির্বাচিত ব্যস্ত পুজোমণ্ডপগুলিতে বিশেষ পরিষেবা চালু করল রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তর। মূলত বয়সের ভার বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যাতে উৎসব পালনের পথে বাধা না–হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ‘আমার শহর আমার মানুষ’ কর্মসূচির আওতায় এই বিশেষ পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে দপ্তর। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার সুরুচি সঙ্ঘের প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য এই বিশেষ ‘রেস্টিং লাউঞ্জ’-এর উদ্বোধন করেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একই উদ্যোগ চালু হয়েছে উত্তর কলকাতার আহিরীটোলা যুবকবৃন্দ পুজোমণ্ডপেও। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে গুডউইল পার্টনার হলো ‘এই সময়’, কনসেপ্ট পার্টনার ‘শতদ্রু দত্ত ইনিশিয়েটিভ’ এবং ক্রিয়েটিভ পার্টনার ‘রেসপন্স’।
বুধবার সুরুচি সঙ্ঘের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘এই প্যাভিলিয়নে জল চা, কফি, বিস্কুট দেওয়া হবে। থাকবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা।’ এ ছাড়া, দু’জন অ্যাটেনডেন্ট থাকবেন, যাঁরা সাহায্য করবেন প্রবীণ নাগরিক বা চলাফেরায় অসুবিধে আছে, এমন দর্শনার্থীদের। অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘হয়তো দর্শনার্থীরা বুঝতে পারবেন না, এটা কেন করা হয়েছে। অনেকে নিজে নিজে থেকে আসতে চান না। মনে করেন, গেলে হয়তো কেউ কিছু বলবে। তাঁদের তো বলতে হবে এখানে আসুন, বসুন। ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, একটু চা খেয়ে যান।’
পুর দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, চলাফেরায় অসুবিধা বা বার্ধক্যজনিত কারণে উৎসবের দিনগুলিতে কাউকে যেন ব্রাত্য থাকতে না–হয়, সেই উদ্দেশ্যেই কলকাতার জনবহুল মণ্ডপগুলিতে প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষম দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তৈরি হচ্ছে পৃথক পরিকাঠামো। উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চিহ্নিত মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের সুবিধের জন্য প্রধানত চারটি প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যবস্থা থাকছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়া প্রবীণদের সাময়িক বিশ্রামের জন্য ‘বিশ্রাম লাউঞ্জ’ গড়ে তোলা হয়েছে। ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া বা চোট-আঘাতের মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ‘ফার্স্ট এইড’ বা প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র। এ ছাড়াও চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সুবিধের কথা মাথায় রেখে বসানো হচ্ছে আধুনিক বায়ো-টয়লেট এবং পানীয় জলের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, উৎসবে ভিড়ের চাপে প্রায়শই প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের অনেকেই মণ্ডপ দর্শনে অনীহা প্রকাশ করেন। এই পরিকাঠামো চালু হলে শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও উৎসবের আবহে নিরাপদে ঠাকুর দেখার সুযোগ পাবেন তাঁরা। উৎসবকে সর্বজনীন ও সহজলভ্য করে তুলতে এমন কল্যাণমূলক ব্যবস্থার রূপায়ণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নের ভাবনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পুর দপ্তরের কর্তারা।
