
সরাইল প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের চলমান অর্থনৈতিক কষ্ট এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির রদবদল নিয়ে কড়া ও গম্ভীর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি সরকারের বিভিন্ন নীতি ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।
তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে, সুদীর্ঘ ১৭ বছরের একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমা ও পটপরিবর্তনের পরও দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য তথা মৌলিক চাহিদার কোনো গুণগত উত্তরণ ঘটেনি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি পূর্ববর্তী নেতিবাচক শাসনের সঙ্গেই তুলনাযোগ্য বলে মনে করেন, যেখানে সাধারণ মানুষ এখনও বাজারে গিয়ে চাল, ডাল এবং ডিমের মতো অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর আকাশচুম্বী ও লাগামহীন দামের মুখে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। নতুন সময়ে এসেও সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পায় তাঁর বক্তব্যে।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জেঁকে বসা চাঁদাবাজি নিয়ে অত্যন্ত কড়া হুশিয়ারি দেন এই সংসদ সদস্য। তিনি জানান যে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজির চিত্র এখন এমন এক শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সাধারণ মানুষকে তাদের গৃহপালিত গবাদিপশুকে খোলা মাঠে ঘাস খাওয়াতেও অর্থ দিতে হচ্ছে। এমনকি দাবিকৃত অবৈধ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে খামারিদের মৎস্য প্রকল্প ও পুকুরের মাছে বিষ প্রয়োগ করে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁর নিজের নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড তিনি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। যদি সরাইল বা আশুগঞ্জের কোথাও কোনো চাঁদাবাজির প্রমাণ মেলে, তবে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেই সরাসরি রাজপথে নেমে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করবেন। রাজনৈতিক সুস্থতা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি কোনো প্রকার অবৈধ বালু ব্যবসায়ী কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাবাজদের ডানে-বামে রেখে নোংরা রাজনীতি করার পথ পুরোপুরি পরিহার করার ঘোষণা দেন।
পরিবারতন্ত্র ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখার অঙ্গীকার করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সারের ডিলারশিপ বা সরকারি রাস্তাঘাটের উন্নয়নমূলক কাজের ঠিকাদারি পাইয়ে দেওয়ার মতো কোনো আত্মীয় তাঁর নেই। ফলে তাঁর কোনো স্বজন বা নিকটাত্মীয়ের নাম ভাঙিয়ে কাউকে ব্যবসা করতে কিংবা কোথাও চাঁদা দিতে হবে না।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের চূড়ান্ত সতর্কতা দিয়ে সংসদ সদস্য জানান যে, সাধারণ ভোটারদের সাথে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। যেকোনো ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বা ভোটার চাইলে পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখে তাঁর কাছে সরাসরি লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
