আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। লাইসেন্সে রক্তের গ্রুপ, মোবাইল নম্বর এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য বাধ্যতামূলক করা থেকে শুরু করে অনলাইন সেফ ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশের নম্বর বাড়ানো—একাধিক বিষয়ে নতুন নিয়ম আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় নাগরিক ও বিদেশি নাগরিকদের জন্য আলাদা রঙের ড্রাইভিং লাইসেন্স চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক মোটর ভেহিকলস রুলসে সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বলে টাইমস অফ ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে।
লাইসেন্সে কী কী বদল আসতে পারে?
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্সে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয়তা উল্লেখ করতে হবে। ভারতীয় নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিকদের লাইসেন্স চিহ্নিত করার জন্য পৃথক রঙের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সে রক্তের গ্রুপ, মোবাইল নম্বর এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের ব্যক্তির বিবরণ রাখাও বাধ্যতামূলক হতে পারে।
বর্তমানে নির্দিষ্ট নথির কোনওটি জমা দিতে না পারলে বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা নোটারি পাবলিকের সামনে করা হলফনামা গ্রহণ করতে পারে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ। নতুন প্রস্তাবে এই সুবিধা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগ, হলফনামা ব্যবহার করে ভুল জন্মতারিখ ও ভুয়ো ঠিকানা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছিল। সেই অপব্যবহার রুখতেই যাচাইযোগ্য নথির উপর জোর দিতে চাইছে কেন্দ্র।
কোন নথিগুলি গ্রহণযোগ্য হতে পারে?
ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, ই-রেশন কার্ড এবং গত তিন মাসের বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিলের মতো নথি গ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের ভারতে বৈধভাবে থাকার প্রমাণ দিতে হবে। বয়সের প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট, স্কুল বোর্ডের মার্কশিট, জন্ম শংসাপত্র এবং সরকারি দফতরের পরিচয়পত্রের কথা বলা হয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য আধার, পাসপোর্ট, ই-রেশন কার্ড ও প্যান কার্ড গ্রহণযোগ্য হতে পারে। জীবনবিমার পলিসিকে প্রমাণপত্র হিসেবে গ্রহণ না করারও প্রস্তাব রয়েছে।
অনলাইন পরীক্ষায় পাশের নম্বর বাড়ছে
নিরাপদে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত অনলাইন টিউটোরিয়াল মূল্যায়নে পাশের নম্বর ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে মন্ত্রক। টিউটোরিয়ালটি অন্তত ৩০ মিনিটের হতে হবে। এর ফলে আবেদনকারীদের নিরাপদে গাড়ি চালানোর নিয়ম সম্পর্কে আরও ভালোভাবে অবগত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অনলাইন পরিষেবায় মিলতে পারে সুবিধা
আধারের মাধ্যমে অনলাইনে পরিচয় যাচাই করে ড্রাইভিং লাইসেন্সে নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর পরিবর্তনের মতো নির্দিষ্ট পরিষেবা বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। আবেদন বাতিল হলে তার কারণও উল্লেখ করতে হবে। ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন ৩০ দিনেও নিষ্পত্তি না হলে সেটিকে অনুমোদিত বলে গণ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ, ডুপ্লিকেট লাইসেন্স, নতুন গাড়ির শ্রেণি সংযোজন এবং ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তনের জন্য একটি সমন্বিত আবেদনপত্র চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সারথি পোর্টালে থাকা তথ্যও প্রয়োজনে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলি এখনও খসড়া প্রস্তাব। চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
https://www.youtube.com/watch?v=jNGYSN4KXPc
