শারদীয় দুর্গোৎসব আজ শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি আজ সারা বাংলাদেশের মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে। এটাই নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন।
এবারের দুর্গাপূজায় আমরা যা দেখলাম, তা অতীতে কখনো দেখিনি। সরকারি দল বিএনপি, প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি সহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এই উৎসবকে ঐতিহাসিক করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শুধু ঢাকায় বসে শুভেচ্ছা জানাননি, তিনি সরাসরি মাঠে নেমেছেন।
প্রথম পর্ব — রাজধানী: গত রোববার রাতে তিনি সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মহাখালী ও বনানীর পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
দ্বিতীয় পর্ব — ইতিহাস সৃষ্টিকারী তিন জেলা সফর:এরপর মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, মহানবমীর দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে একই দিনে ঢাকার বাইরে তিন বিভাগে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যান।
সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
১. রংপুর:সৈয়দপুর হয়ে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ মন্দির (ধর্মসভা) পরিদর্শন করেন।
২. রাজশাহী: দুপুর দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন ও পরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন।
৩. চট্টগ্রাম: সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর রহমতগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হল পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এই মণ্ডপে যান।
এই সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামে ২০ হাজারের বেশি পুলিশ, এসআরবি, আনসার ও বিজিবি সমন্বয়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক বার্তা:জে এম সেন হলে তিনি বলেন, “এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সকলের। আমরা যেই ধর্মের হই না কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশি। আমাদের একমাত্র পরিচয়, ধর্মের পরিচয় নয়; আমাদের একমাত্র পরিচয়, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।”
তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিস্টান। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টেও আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলি খাওয়া মানুষটি কোন ধর্মের।”
প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে — যা সরকারের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বড় প্রমাণ। এটি কোনো লোক দেখানো সম্প্রীতি নয়, এটি আন্তরিক সম্প্রীতি।
যখন সরকারি দল ও বিরোধী দল একই সাথে একটি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা ও সফলতা নিশ্চিত করতে এক কাতারে দাঁড়ায়, তখনই একটি রাষ্ট্র পরিপক্ক হয়।
এই শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।
লেখক: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।
