পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহতের ঘটনায় নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্কুলমালিক খান মুহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত শিশুদের স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার জিওটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা শের আহমেদ এ দুর্ঘটনার জন্য নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীকে দায়ী করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, গভীর শোক ও দুঃখের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি। তদন্তে যাদের দায় পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো ব্যক্তিরাও অভিযোগ করেছেন, ভবনটির অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তা উপেক্ষা করেছে। তারা দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় দুই ভাতিজাকে হারিয়েছেন মোহাম্মদ জামান। তিনি বলেন, ‘তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, যাতে অন্যরা শিক্ষা পায়। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য কেউ যেন স্কুল খোলার সাহস না পায়।’
বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনা, দাবি স্কুলমালিকের
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় স্কুলমালিক খান মুহাম্মদ দাবি করেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে স্কুল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার দিন সকালে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষটি পরিদর্শন করেছিলেন। ছাদ ধসের পর শিক্ষকদের ডেকে শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, দুর্ঘটনাকবলিত শ্রেণিকক্ষে প্রায় ৩০ জন শিশু ছিল।
স্কুলমালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল।
দুর্বল ছাদে ব্যবহার করা হয়েছিল লোহার বিম ও কাঠের তক্তা
পুলিশের এসএসপি অপারেশনস জানিয়েছেন, ভবনের ভেতরে ১১০ থেকে ১১৫ জন শিশু থাকা অবস্থায় ছাদ ধসে পড়ে। কাঠামোটি ভেতরে থাকা মানুষের ভার বহন করতে না পারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ছাদটি দুর্বল ছিল এবং নিরাপত্তার কারণে কাউকে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদ নির্মাণে টি-আকৃতির লোহার বিম ও কাঠের তক্তা ব্যবহার করা হয়েছিল। কাঠামোটি ভার সহ্য করতে না পেরে ধসে পড়ে এবং শিশুরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, স্কুল ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে স্কুলমালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাদ ধসের ঘটনায় অন্তত ৩৪ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত এবং অন্তত ৪৫ জন আহত হন। নিহতদের অধিকাংশের বয়স ছিল ১৩ বছরের নিচে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনেরা।
