আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর সপ্তমীর রাতে উদ্ধার হল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার মালিহাটির গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আরিয়ান মণ্ডলের (১০) দেহ। সপ্তমীর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে একটি বাঁশ বাগানের মধ্যে পরিত্যক্ত ইটভাটার চিমনির ভেতর থেকে উদ্ধার হয় ওই ছাত্রের দেহ।
এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই হরিহরপাড়া থানার পুলিশ দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্নিফার ডগ। তবে এই খুনের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকাল নাগাদ হরিহরপাড়ার চোঁয়ার একটি বেসরকারি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নিজের বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ খেলার পর এক বন্ধুকে ব্যাডমিন্টন র্যাকেটটি দিয়ে আরিয়ান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।
আরিয়ানের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে বাড়ির লোক বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রের সন্ধান মেলেনি। গতকাল বিকালের পর থেকে মালিহাটি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ইটভাটার ভেতর থেকে প্রচন্ড দুর্গন্ধ বার হতে থাকে। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ইটভাটার ভেতরে প্রবেশ করলে তাঁরা দেখতে পান ঘাস-পাতা দিয়ে আরিয়ানের দেহটি চাপা দেওয়া রয়েছে।
আরিয়ানের দেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পরই হরিহরপাড়া থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে যায়। এলাকাবাসীর দাবি মেনে তদন্তের জন্য সেখানে রাতেই স্নিফার ডগ আনা হয়। মৃতদেহ উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই নাবালকের বাবা বাপী মণ্ডল টালির মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। ছেলের পড়াশোনার জন্য অত্যন্ত কষ্ট করে আরিয়ানকে চোঁয়ার একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। উৎসবের মরশুমে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় আরিয়ান বাড়িতে এসেছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার বিকাল নাগাদ আরিয়ান ব্যাডমিন্টন খেলব বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি।
প্রাথমিকভাবে অনেকেই মনে করেছিলেন আরিয়ানকে মুক্তিপণের জন্য অপহরণ করা হয়েছে। তবে গত চার দিনে মুক্তি পণ চেয়ে পরিবারের কাছে কোনও ফোন আসেনি বা কেউ যোগাযোগও করেনি।
মৃত ওই নাবালকের এক প্রতিবেশী গজল শেখ জানান, 'বাপী এবং তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত সজ্জন মানুষ হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। কী কারণে তাঁদের একমাত্র সন্তান, আরিয়ানকে অপহরণ করা হয়েছিল বা কারা নিয়ে গিয়েছিল তা নিয়ে আমরা সকলেই ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি।"
তবে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, শনিবার সন্ধ্যার পর যেখান থেকে আরিয়ানের দেহ উদ্ধার হয়েছে সেই এলাকায় আগেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল কিন্তু সেই সময় আরিয়ানের দেহ ওখানে ছিল না। তাঁদের অনুমান তল্লাশি হয়ে যাওয়ার পর কেউ বা কারা দেহটি পরিত্যক্ত ইটভাটার চুল্লির মধ্যে ফেলে গিয়েছিল।
গ্রামবাসীরা আরও জানিয়েছেন, আরিয়ানের দেহে বড় কোনও আঘাতের চিহ্ন প্রাথমিকভাবে তাঁদের নজরে আসেনি। অনেকেরই অনুমান ওই নাবালককে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, ইটভাটা থেকে পচা দুর্গন্ধ বার হওয়ার পর তাঁরা সন্দেহ করেছিলেন ওখানে কিছু পড়ে রয়েছে। সেই কারণেই কয়েকজন ইটভাটায় তল্লাশি চালাতে গিয়েছিলেন, তখনই আরিয়ানের দেহ উদ্ধার হয়।
