ডেস্ক রিপোটারঃ
প্রতিদিন দরোজার হাতল মোবাইল ফোন টাকা কিংবা গণপরিবহনের বিভিন্ন সামগ্রী স্পর্শ করার মাধ্যমে হাতে জমতে পারে অসংখ্য জীবাণু। পরে সেই হাত দিয়ে খাবার খাওয়া বা চোখ মুখ স্পর্শ করার ফলে শরীরে ছড়াতে পারে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ।
অথচ সঠিক নিয়মে মাত্র ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস কমাতে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি। তাই সুস্থ থাকতে হাত ধুতে হবে। আজ ১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে।
সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।
দিবসটির সূচনা ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। ওই বছর ১৫ অক্টোবর সুইডেনের স্টোকহোমে বিশ্ব পানি সপ্তাহে জিএইচপি বিশ্বব্যাপী আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম এ দিবসটি পালন করা হয়।
পরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দিবসটি প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (CDC) নির্দেশনা অনুযায়ী সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ঘষে ধোয়া উচিত।
এ সময় হাতের তালু হাতের পিঠ আঙুলের ফাঁক বুড়ো আঙুল ও নখের চারপাশ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে হাত ধুলে এসব জায়গায় ময়লা ও জীবাণু থেকে যেতে পারে। তাই শুধু হাতে সাবান লাগানো নয় প্রতিটি অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করাও জরুরি।
নিয়মিত ও সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়ার চেয়ে সাবান ও পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করা বেশি কার্যকর।
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের বার্তা হলো হাত ধোয়াকে যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অভ্যাস হিসেবে গড়ে তোলা হয়। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি।
সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার এই ছোট্ট অভ্যাস ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হাত ধোয়া খুব সাধারণ একটি কাজ হলেও এর গুরুত্ব অনেক।
নিয়ম মেনে হাত ধুলে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের কিছু সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই শুধু হাত ধোয়া দিবসেই নয় প্রতিদিন সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও এই বিষয়ে সচেতন করুন।
ছোট্ট এই অভ্যাসই সুস্থ জীবনযাপনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। রোগজীবাণুর সংক্রমণ ঠেকাতে দৈনন্দিন জীবনে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা বিশেষভাবে প্রয়োজন। যেমন
খাবার তৈরি ও খাওয়ার আগে
কাশি হাঁচি বা নাক পরিষ্কারের পর
শৌচাগার ব্যবহারের পর
বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর
শিশুদের খাওয়ানো বা পরিচর্যার আগে ও পরে
পোষা প্রাণী স্পর্শ করার পর।

