স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন সড়কে আবারও বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে সেখানে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হলে ওই দিন বিকালে প্রশাসনের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল।
কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ সাজেকবাসীর ৩ দফা দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় সাজেকে আবারও পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ অবরোধের ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাজেকের মাচলং এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে ১১ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওই দিন প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। যার কারণে আমরা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। উপরন্তু এদিন সেনাসদস্যরা মাচলংয়ের চিল্যাতলি গ্রামে মিয়্যো চাকমা নামে এক সাধারণ গ্রামবাসীর ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানগুলোতেই রয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা মাচলং এলাকার থালকুম্ভা, চিল্যাতলি, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়াছড়ি এলাকায় প্রকাশ্যে সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে, জনগণকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং গ্রামবাসীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিচ্ছে। সেনাবাহিনী লোকদেখানো অভিযান চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলাকার জনগণের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার্থে এবং জেএসএসের সন্ত্রাস ও উৎপাত বন্ধে তাদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থেকে সাজেকে আবারও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে।
অবরোধ চলাকালে জরুরি ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী ও সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সাংবাদিকদের গাড়ি আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় অনিবার্য কারণ উল্লেখ করে ১১ অক্টোবর এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটন কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।
একই সঙ্গে ১৩ অক্টোবর বিকাল ৫টার মধ্যে অবস্থানরত পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সবাই সাজেক ত্যাগ করেন। বর্তমানে সাজেক সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য বলে জানান সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চাকমা।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশাসন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।