সংবাদচর্চা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূইগড় এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করেও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তরুণীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ফতুল্লার ভূইগড়ের সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ এবং হাত-পা বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোথাও তরুণীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে রাতের কোনো একসময় ওই ঝোপে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে যান তাঁরা। সেখানে সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের ঝোপে একটি বস্তা দেখতে পান। পরে বস্তা খুলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ পাওয়া যায়।
তিনি জানান, নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করা হলেও তাতে সফলতা আসেনি। পরে তরুণীর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এসআই মিলন ফকির আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলাটির তদন্তভার তাঁর ওপরই রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের ধরন ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের ১১ দিন পার হলেও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তরুণীর পরিচয় শনাক্ত, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
The post ফতুল্লার ভূইগড়ে তরুণী হত্যা: পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা, অপেক্ষা ময়নাতদন্তের appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
