প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। শহরের কয়েকটি স্থানে গাড়ি ও সংবাদপত্র বিক্রির কিয়স্কে আগুন দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম সি-নিউজ ও ইউরোপ ওয়ানের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের একটি দল নগর ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। লিওঁতে একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রেন, তুলুজ ও আঞ্জেতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাই সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পর প্যারিসের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩২ হাজার ৮০০ মানুষ ১৪০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলন আয়োজকদের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
উত্তর প্যারিসের কয়েকটি সুবিধাবঞ্চিত উপশহরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ শুরু হয়। শিক্ষকসংকট, দুর্বল অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত শিক্ষাসম্পদের অভাব নিয়ে তাদের অভিযোগ ছিল। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষও আন্দোলনে যুক্ত হয়।
প্যারিসে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আর্থিক চাপে রয়েছেন। শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। আন্দোলনে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকদের অংশগ্রহণও দেখা গেছে।
বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি ঘটনায় স্টান গ্রেনেড হাতে তুলে নেওয়ার পর এক কিশোরের হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু এর আগে বিভিন্ন বিক্ষোভে ৯০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের আচরণকে অতিরিক্ত কঠোর বলে অভিযোগ করেছে।
ফরাসি সরকার এর আগে শিক্ষার্থী বিক্ষোভের সময় স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তবে শনিবার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তা আবার ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।
বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষায় বিনিয়োগ ও সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ আরও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রবার মাখোঁ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিবাদের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ; তবে মানুষ ও সম্পত্তির প্রতি সম্মান দেখানোও জরুরি। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষোভটি ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পেয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে সরকারের পদক্ষেপ, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
The post মূল্যবৃদ্ধি ও শিক্ষাসংকটে ফ্রান্সে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ২৭২ appeared first on ভোরের চেতনা.
