আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আট মাস পূর্ণ হতে চলেছে।
এরই মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ওয়াশিংটনে। শুক্রবার ফ্লোরিডায় একটি জনসভা থেকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ফের সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সংঘাতের নাম রাখা হয়েছিল ‘এপিক ফিউরি’। সেই অভিযানের প্রসঙ্গ টেনেই ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবারও একটা ছোটখাটো ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারি।’
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘ওরা বুদ্ধিমান হলে আলোচনায় বসার কথা বলতে পারে। কিন্তু আমার তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।’
উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইরান সংঘাত কতদিন ধরে চলবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার মধ্যেই ফের ইরানে হামলা চালানোর ওয়ার্নিং দিয়ে বসলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আমেরিকার অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তার প্রভাব গোটা মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের অর্থনীতির উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইরান লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলা এবং লেবাননে ইজরায়েলের আক্রমণে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
এর আগে শুক্রবারই এর আগে হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, চাইলে খুব দ্রুত এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে আমেরিকা। তবে একেবারে যুদ্ধ থামবে নাকি ধাপে ধাপে শান্তি ফেরানো হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়েও তেল পরিবহণ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এবং যুদ্ধের সময়সীমা বারবার বদলেছে।
অক্টোবরের গোড়ায় তিনি জানিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না আমেরিকা। সেই সময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল বলেও খবর সামনে এসেছিল।
আবার, বুধবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল।
এবার হামলা চালানো হতে পারে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো, পরমাণু কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে। ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারির মধ্যেই শুক্রবার একাধিক দেশের বিদেশমন্ত্রীরা সতর্ক করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু হলে গোটা বিশ্বে তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=8cmBHdqXlCBWCihK
ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং ইতালির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তার আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গুরুতর হতে পারে, সেই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
