Published on
:
3 min read
প্রথম ম্যাচে চার গোল, দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচ! ISL-এ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে যেন গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। চার্চিল ব্রাদার্সের পর এ বার ইন্টার কাশীকে (Inter Kashi FC) ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল লাল-হলুদ। প্রতিপক্ষের রক্ষণকে শুরু থেকেই তছনছ করে দিলেন দানি রামিরেজ় (Dani Ramirez), পিভি বিষ্ণু (PV Vishnu), একে লোবারা (Ake Loba)। প্রথমার্ধেই চার গোল করে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় ঠিক করে দেয় ইস্টবেঙ্গল। জোড়া গোল করেন লোবা, একটি করে গোল রামিরেজ় ও বিষ্ণুর। শেষ দিকে পরিবর্ত হিসেবে নেমে ব্যবধান বাড়ান লুকাস জ়ভোলিনস্কি (Lukasz Zwolinski)।
আত্মঘাতী গোল না হলে ইন্টার কাশীর গোলের খাতাও খুলত না। টানা দু’টি জয়, ৬ পয়েন্ট এবং ৯টি গোল— ISL-এ এমন দাপুটে শুরু করে পয়েন্ট টেবলের শীর্ষে উঠে এল আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাসের দল। সামনে AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তার আগে এই জয় নিঃসন্দেহে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে লাল-হলুদ শিবিরকে।
আট মিনিটে প্রথম গোল, ৩৫ মিনিটেই চার
চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ৪-০ জয়ের পর প্রথম একাদশে পাঁচটি বদল করেছিলেন কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ় হাবাস (Antonio López Habas)। সামনে AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর ম্যাচ থাকায় কয়েক জনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে আক্রমণের ধার কমেনি। বরং শুরু থেকেই ইন্টার কাশীর রক্ষণে চাপ তৈরি করে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে নেমে জোড়া গোল করা বিপিন সিং (Bipin Singh) এ দিন প্রথম একাদশে সুযোগ পান। আক্রমণে লোবা ও বিষ্ণুর সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াও নজর কাড়ে।
২ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন বিপিন। তার পর রশিদের দূরপাল্লার শট আটকে দেয় কাশীর রক্ষণ। তবে আট মিনিটে আর গোল আটকানো যায়নি। রশিদ ও বিষ্ণুর সঙ্গে পাস খেলার পর বল ফিরে পান দানি রামিরেজ়। গোলকিপার আলবিনো গোমেজ়কে (Albino Gomes) সামনে পেয়ে তাঁর মাথার উপর দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। ১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বিষ্ণু। বক্সের বাঁ দিক থেকে তাঁর মাটি ঘেঁষা শট গোমেজ়ের হাত ফস্কে গোলে ঢুকে যায়।
২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-০ করেন লোবা। বক্সের মধ্যে রামিরেজ়কে ফেলে দেওয়ায় পেনাল্টি পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনও ভুল করেননি আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার। তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াই ছাড়েনি কাশী। ১৮ মিনিটে আয়ুষ চিকারা ও রোজ়েনবার্গ গ্যাব্রিয়েলের আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। রোজ়েনবার্গের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে চিকারার প্রচেষ্টা আটকে দেন হার্দিক ভাট।
২৮ মিনিটে অবশ্য আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমে। ডান দিক থেকে লালদিনলিয়ানার বাড়ানো ক্রস আটকাতে গিয়ে নিজের জালেই বল জড়িয়ে ফেলেন লালচুংনুঙ্গা। কিন্তু সেই গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ইন্টার কাশীর। ৩৫ মিনিটে রামিরেজ়ের পাস ধরে ডান দিক থেকে ক্রস বাড়ান বিপিন। নিখুঁত জায়গায় পৌঁছে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন লোবা। প্রথমার্ধের শেষে ৪-১ গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে গতি কমালেও গোল জ়ভোলিনস্কির
বিরতির পরেও আক্রমণ চালিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ৫৫ মিনিটে ইকোনোমিডিসের (Ikonomidis) ক্রস থেকে বিষ্ণুর শট দারুণ ভাবে বাঁচান গোমেজ়। এর কিছুক্ষণ পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে বক্সে ঢুকে পড়েন রামিরেজ়। তাঁর শট আটকে দেন কাশীর গোলকিপার। ফিরতি বল থেকে বিষ্ণুর ক্রস পেলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জ়ভোলিনস্কি। ৬০ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখা লোবাকে তুলে নেন হাবাস। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন জ়ভোলিনস্কি। বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ইস্টবেঙ্গল ধীরে ধীরে খেলার গতি কমিয়ে আনে। ছোট ছোট পাসে বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করে তারা। অন্য দিকে, কাশী পিছন থেকে আক্রমণ সাজিয়ে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
৭৮ মিনিটে রামিরেজ়ের পরিবর্তে ডেভিড মাঠে নামেন। তার পরেই ব্যবধান আরও বাড়ায় লাল-হলুদ। ৮১ মিনিটে ডান দিক দিয়ে দ্রুত বক্সের দিকে এগিয়ে যান ইকোনোমিডিস। মাঝখানে তাঁর বাড়ানো বল পেয়ে সহজেই জালে ঠেলে দেন জ়ভোলিনস্কি। ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে এটাই তাঁর প্রথম গোল। শেষ দিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল লাল-হলুদ, কিন্তু স্কোরলাইন আর বদলায়নি। শেষ বাঁশি বাজার সময় ৫-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত ইস্টবেঙ্গলের।
বালেওয়াড়ির পুরনো স্মৃতি, সামনে AFC-র পরীক্ষা
ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে এই জয় ইস্টবেঙ্গলের কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ গত ISL মরশুমের স্মৃতির কারণে। ২০২৬ সালের ২১ মে মরশুমের শেষ ম্যাচে ইন্টার কাশীকে ২-১ গোলে হারিয়েই দীর্ঘ ২২ বছর পর দেশের শীর্ষ লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-হলুদ। প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও ইউসুফ এজ়েজারির গোলে সমতা ফিরিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। পরে মহম্মদ রশিদের গোলে আসে ঐতিহাসিক জয়। এ বার নতুন মরশুমে সেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাঁচ গোলের জয় দিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল হাবাসের দল।
পুণের বালেওয়াড়ি স্টেডিয়ামের সঙ্গেও ইস্টবেঙ্গলের পুরনো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারি আই লিগের ম্যাচে ডিএসকে শিবাজিয়ান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। সে দিন গোল করেছিলেন ওয়েডসন আনসেলমে (Wedson Anselme) ও উইলিস প্লাজ়া (Willis Plaza)। প্রায় ন’বছর আগের সেই জয়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে এ বারের পাঁচ গোলের জয় জুড়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে।
দু’ম্যাচে ৯ গোল করে মাত্র একটি গোল হজম করেছে ইস্টবেঙ্গল। তবে ISL-এ এই দুরন্ত শুরুই শেষ কথা নয়। সামনে AFC চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ ওমানের আল সীবের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। ঘরোয়া লিগের ছন্দ এশিয়ার মঞ্চেও ধরে রাখাই এখন হাবাসের দলের লক্ষ্য।